শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

মানিকগঞ্জে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে অসংখ্য পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০

মা‌নিকগ‌ঞ্জের আরিচা প‌য়ে‌ন্টে আজ থে‌কে আবা‌রও পদ্মা ও যমুনার পানি বাড়‌তে শুরু ক‌রে‌ছে। জেলার ভেত‌রে শাখা নদীর পা‌নি অব্যাহত হারে বাড়ার ফ‌লে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও লক্ষাধিক মানুষ পা‌নিব‌ন্দি হ‌য়ে পড়ে‌ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে চরম দু‌র্ভোগ।

এদিকে, জেলার শিবালয়, দৌলতপুর, হরিরামপুর, ঘিওর, সাটু‌রিয়া ও সদর উপজেলার  বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে জেলা শহ‌রের আশপা‌শের অধিকাংশ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, যমুনার পানি আরিচা পয়েন্টে ৭২ সেন্টিমিটার থেকে ২৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর আজ শুক্রবার সকাল ৬টা থে‌কে ২ সে‌ন্টি‌মিটার পা‌নি বৃ‌দ্ধি পে‌য়ে এখন বিপৎসীমার ৫১ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দি‌য়ে প্রবা‌হিত হচ্ছে।

এ ছাড়া কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, জ্বালানি ও গো-খাদ্যের সংকট।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাটুরিয়া উপ‌জেলার তিল্লী এলাকার কৃষক সোবহান (৬৫) বলেন, ‘বন্যায় আমাগো ব্যাপক ক্ষতি হইছে। ক্ষ্যাতসহ বাড়িও তলায়্যা গেছে।’ সরকারি সহায়তা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে চরম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘কারা সাহায্য দেয়? দিবো ক্যারা? আমার জীবনে আমি কোনোদিন এগুলি এই সাহায্য-টাহায্য পাই নাই।’

এদিকে, তিল্লীর পালপাড়ার অর্চনা সূত্রধর জানালেন, বন্যায় তাদের বাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকেছে। নলকূপ, শৌচাগার জলে ডুবে যাওয়ায় খুবই কষ্টে দিন পার করছেন। এ ছাড়া রান্না করার মতো যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানিও মজুদ নেই তাঁদের। তিনি বলেন, ‘কী আছে আগামীতে, একমাত্র ভগবানই বলতে পারবেন।’

অন্যদিকে, দৌলতপুর উপ‌জেলার ধামশর ইউনিয়‌নের কাপসাইল গ্রাম ও কাকনা বাজা‌রে গি‌য়ে স‌রেজ‌মি‌নে দেখা যায়, বাজার ডুবে যাওয়ার ফলে দোকানিরা বাজারসংলগ্ন বিদ্যাল‌য়ের বারান্দায় আশ্রয় নি‌য়ে‌ছেন। সেইসঙ্গে কাপসাইল গ্রা‌মের মূল সড়কের ক‌য়েক জায়গায় বন্যার পা‌নিতে বেশ কিছু বাড়ি ডু‌বে গেছে।

কাকনা বাজা‌রের হতাশাগ্রস্ত দোকানি মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার একটা ছোট দোকান ছিল, সেটা পানিতে ভাইস্যা গেছে। এহন মালসামান কিছু নিয়্যা কোনোমতে স্কুলের বারান্দায় আছি। এইখানেও লোকজন আসতে পারে না। বন্যার পানির জইন্যে এলাকার লোকজনেরও খুব অসুবিদে। আমিও খুব সমস্যার মইধ্যে আছি।’ এ ছাড়া তাঁর বাড়ি দ্রুত তলিয়ে যাবে বলেও জানান ওই দোকানি।

অন্যদিকে, কাপসাইলের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন কাকনা বাজারে পানের দোকান করে সংসার চালান। চলমান করোনা সংকট ও বন্যা দুইয়ে মিলে তাঁর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সংসার চালানোটাই এখন বড় সমস্যা। তিনিও স্কুলের বারান্দায় পান বিক্রির জন্য আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু আশানুরূপ ক্রেতা না পেয়ে তিনি এখন হিমশিম খাচ্ছেন।

সদর উপজেলায়ও বন্যার ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। গড়পাড়ার চান্দইর গ্রামের জামালুদ্দিন বলেন, ‘বন্যায় বিভিন্ন গাছগাছালি, পেঁপের বাগান সম্পূর্ণ তলায়ে গ্যাছে। আর ঘরবাড়িও তলায়ে যাওয়া-যাওয়া ভাব হইয়্যে গেছে।’

এ জেলার অধিকাংশ কাঁচা-পাকা সড়কসহ নিম্নাঞ্চলের সব রাস্তাই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রবল স্রোতে বেশ কিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া এ অঞ্চলের প্রায় ৪০ শতাংশ ফসলি জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
19202122232425
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com