রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

ট্যানারি মালিকদের কাছে পুঁজি আটকা: চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় নওগাঁর ব্যবসায়ীরা

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০
ট্যানারি মালিকদের কাছে পুঁজি আটকা: চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় নওগাঁর ব্যবসায়ীরা

নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ী সাদিক হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে বেশ সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন তিনি। তবে তিন বছর ধরে কয়েকটি ট্যানারিতে তার ৩৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা আটকে আছে। দীর্ঘদিন ধরে তাগাদা দিয়েও পাওনা টাকা আদায় করতে পারছেন না তিনি। ব্যবসায়িক পুঁজির একটা বড় অংশ আটকে পড়ায় এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

 

সাদিকের মতো একই অবস্থা আরেক চামড়া ব্যবসায়ী ফরিদ আকতারের। নাটোরের এক চামড়ার আড়তদারের কাছে ২০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে তার, যা তাগাদা দিয়েও ফেরত পাচ্ছেন না তিনি। এতে আসন্ন কোরবানির ঈদে চামড়া কেনা নিয়ে বিপাকে পড়তে হতে পারে।

 

কেবল সাদিক হোসেন ও ফরিদ আকতার নন, ট্যানারি মালিকদের কাছে নওগাঁর অধিকাংশ চামড়া ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিনের টাকা আটকে আছে। ফলে আসন্ন কোরবানির ঈদের চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় আছেন জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা টাকা দ্রুত ফেরত পেতে তারা সরকারের সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

 

পাশাপাশি এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে জেলা পর্যায়ের প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলার চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদুল আজহায় নওগাঁয় ৮০ হাজারের বেশি গবাদিপশু কোরবানি দেয়া হয়। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার গরু ও বাকি ৪৫ থেকে ৫০ হাজার অন্যান্য গবাদিপশু। আর জেলায় প্রতি বছরের কোরবানি মৌসুমে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চামড়া কিনে নেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

 

 

জেলার মূল চামড়া ব্যবসায়ী সদস্য সংখ্যা ২২১। এসব সদস্য ছাড়াও ১৫০ জনের মতো নানান ফড়িয়া ও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আছেন। তবে এসব চামড়া ব্যবসায়ীর প্রায় সবাই এখন মূলধন হারিয়ে অভাবে দিনাতিপাত করছেন। ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকার তাগাদা দিয়েও পাচ্ছেন না তারা।

 

ব্যবসায়ীদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের কাছে নওগাঁ জেলার চামড়া ব্যবসায়ীদের বর্তমানে প্রায় ২ কোটি টাকা পাওনা আছে। এর মধ্যে কিছু কিছু আড়তদারের মারফতে ভায়া দেয়া আছে। আর বাকিটা সরাসরি ট্যানারি মালিকদের থেকে পাওনা আছে।
তাদের অভিযোগ, আগে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অল্প পরিমাণ টাকা বাকি রেখে চামড়া নিতেন ট্যানারি মালিকরা। এতে চামড়া ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় কখনো তেমন প্রভাব পড়েনি।

 

 

শতকরা ৮০ ভাগ টাকাই তারা চামড়া ব্যবসায়ীদের দিয়ে দিতেন। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ তিন-চার বছর ধরে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া নেয়ার পর টাকা না দিয়ে পুরো টাকাই আটকে রাখছে ট্যানারিগুলো। দিনের পর দিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যানারি ফেডারেশন, ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনে ধর্ণা দিয়েও এই পাওনা টাকা পাচ্ছেন না তারা। ফলে মূলধন হারিয়ে আজ নিঃস্ব প্রায় জেলার অধিকাংশ চামড়া ব্যবসায়ী। আর মূলধন না থাকায় জেলার বেশির ভাগ প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ী এ মৌসুমে চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

 

 

চামড়া ব্যবসায়ী সাদিক হোসেন জানান, ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মালিকদের থেকে যে পরিমাণ টাকা পাবেন, তার তথ্য প্রমাণসহ তালিকা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দিতে বলেছিল। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তা জমা দেয়ার পরেও কোনো লাভ হয়নি। দেখতে দেখতে আরো একটি কোরবানির ঈদ চলে এল। তার পরেও ট্যানারি মালিকদের থেকে তারা টাকা পায়নি।

 

 

আক্ষেপের সঙ্গে এই ব্যবসায়ী বলেন, আমার মতো মূলধন হারিয়ে অনেকেই আজ পান-বিড়ির দোকান দিতে বাধ্য হয়েছেন। নিজের কাছে কোনো টাকা নেই। তার পরেও ঈদ এলে চামড়া না কিনে থাকতে পারি না। বাপ-দাদার পেশা। তাই ধার-দেনা করে হলেও এবার কিছু চামড়া কিনব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে সরাসরি ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়া হলে আমরা মাঠ পর্যায়ে নিজস্ব পুঁজি দিয়ে চামড়া কিনতে পারব। সেক্ষেত্রে চামড়ার বাজার সমুন্নত থাকবে বলে আশা করি।

 

 

গত তিন বছরে বিভিন্ন ট্যানারির কাছে সরাসরি ও ভায়া হিসেবে ২৪ লাখ টাকা পাওনা আছে নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর। তার অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা না দিয়ে অভিনব কায়দায় চামড়া কিনতে শুরু করেছেন। একবার বাকিতে চামড়া কেনার পর দ্বিতীয়বার তারা আর সরাসরি আসেন না। তখন অন্য কারো মাধ্যমে জেলা থেকে চামড়া কিনে নিয়ে যান তারা। এমন পদ্ধতি অবলম্বন করে সব ট্যানারি মালিক চামড়া কিনে চলেছেন।

 

 

নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মো. মোমতাজ হোসেন বলেন, কয়েকটি ট্যানারির কাছে আমার মোট ৩০ লাখ টাকা পাওনা আছে। কয়েক বছর ধরে চামড়া ব্যবসায়ীরা টাকা পাচ্ছেন না। গত বছর টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তারা আমাদের টাকা দেয়নি। এখন চামড়া কেনার পর সংরক্ষণের জন্য লবণ কেনার মতো টাকাও নেই ব্যবসায়ীদের কাছে।

 

 

এবার কে চামড়া কিনবে তা বলা যাচ্ছে না। কারণ যারা প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ী তাদের কাছে টাকা নেই। সরকার যদি ট্যানারি মালিকদের সরাসরি ঋণ না দিয়ে ট্যানারি ফেডারেশন এবং ট্যানারি অ্যাসোসিয়েনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করত, তাহলেই ব্যাংক ঋণের সুফল মিলবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
19202122232425
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com