শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০১:২৪ অপরাহ্ন

নওগাঁর মহাদেবপুরের ঐতিহ্যবাহী ১শত ৮কক্ষের মাটির বাড়ি

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৮
নওগাঁর মহাদেবপুরের ঐতিহ্যবাহী ১শত ৮কক্ষের মাটির বাড়ি

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য মাটির বাড়ি। গ্রামের মানুষের কাছে মাটির বাড়ি মানে গরীবের ‘এসি’ ঘর হিসেবে খ্যাত। মাটির বাড়ি শীত ও গরমের সময় বেশ আরামদায়ক। এক সময় গ্রামের বিত্তশালীরাও অনেক অর্থ ব্যয় করে মাটির দোতলা বাড়ি তৈরি করতেন। যা কিছু কিছু এলাকায় এখনও চোখে পড়ে। তবে ইট, বালি ও সিমেন্টের এ আধুনিকতায় অনেক মাটির বাড়ি বিলিনের পথে।

জানা গেছে, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আলিপুর গ্রামে ১শ’ ৮ কক্ষের মাটির বাড়ি আছে। বাড়িটি ২১বিঘা জমির উপর নির্মিত। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২শ’ ২৫ফিট। বাড়িতে ছাউনির জন্য টিন লেগেছে ২শ’ বান। মাটির এই বাড়িটি দেখতে অনেকটা প্রাসাদের মতো। বিশাল এই বাড়িটির নির্মাতা দুই সহোদর সমশের আলী মন্ডল ও তাহের আলী মন্ডল।

বাড়িটির দেখা মিলবে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে চেরাগপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে। এছাড়াও জেলা সদর থেকে মহাদেবপুর আসার পথে আন্ত:জেলা মহাসড়কের তের মাইল নামক মোড় থেকে উত্তর দিকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে পাকা রাস্তার পার্শ্বে রাজপ্রাসাদের মতো বাড়িটি অবস্থিত। প্রায় ৩০ বছর আগে মাটির এই দোতলা বাড়িটি নির্মিত হয়েছে। মাটি, খড় ও পানি দিয়ে ভিজিয়ে কাদায় পরিণত করে ২০-৩০ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হয়। এ দেয়াল তৈরি করতে বেশ সময় লাগে। কারণ একসাথে বেশি উঁচু করে মাটির দেয়াল তৈরি করা যায় না। প্রতিবার এক থেকে দেড় ফুট উঁচু করে দেয়াল তৈরি করা হয়। কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার উপর একই উচ্চতার দেয়াল তৈরি করা হয়। এভাবে দোতলা বাড়িটির (১৮-২০ ফুট উঁচু) নির্মিত হয়েছে। বাড়িটির সৌন্দর্য বাড়াতে চুন ও আলকাতরার প্রলেপ দেয়া হয়েছে।

নওগাঁর মহাদেবপুরের ঐতিহ্যবাহী ১শত ৮কক্ষের মাটির বাড়ি
স্বাভাবিক ভাবে মাটির দোতলা বাড়ি নির্মাণ করতে ৪-৫ মাস সময় লাগে। তবে এই বাড়িটি সম্পূর্ন করতে সময় লেগেছিল প্রায় এক বছর। ২১ বিঘা জমির উপর ২’শ ২৫ফিট দৈর্ঘ্যরে এই বাড়িটি তৈরী করতে বাড়ির পেছনে একটি বিশাল পুকুর খনন করতে হয়েছে। সে সময় একই দোকান থেকে ২’শ বান টিন কিনে বাড়িতে ব্যবহার করেন বাড়িওয়ালারা। আর এজন্য দোকানদার তাদের একটি চায়না পনেক্স বাইসাইকেল উপহার দেন।

পায়ে হেটে একবার বাড়ির চার ধার চক্করদিতে সময় লাগে ৬-৮ মিনিট। ১’শ ৮ কক্ষের এই বিশাল বাড়িতে প্রবেশের দরজা ১১টি। তবে প্রতিটি ঘরে রয়েছে একাধিক দরজা। দোতলায় উঠার শিড়িঁ রয়েছে ১৩টি। তবে যে কোন একটি দরজা দিয়ে যাওয়া যাবে ১’শ ৮ কক্ষেই। বিশাল আকারের এই বাড়িতে ছোট বড় সবাই মিলে ৪০ জন লোক বসবাস করে। তবে ব্যবহার হয় ৩০টির মতো ঘর। বাড়ির নির্মাতা সমশের আলী মন্ডল ও তাহের আলী মন্ডল দুই সহোদর শখের বসে বাড়িটি তৈরি করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে বাড়িটি হয়ে উঠতে পারে গ্রাম বাংলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

সমশের আলী মন্ডলের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, বাড়িটি তৈরীর করতে সেই সময় বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৮০জন কারিগর লেগেছিল। আর এই বাড়িটি তৈরী করতে যে মাটি লেগেছিল তা বাড়ির পেছনে একটি পুকুর খনন হয়ে যায়। ১শ’৮ টি ঘরের মধ্যে এখন ৩০টি ঘরে আমরা বসবাস করি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com