মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসাপরায়ণ হবেনা–কর্নেল অলি

নিজস্ব প্রতিবেদক:আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় গেলে বিরোধীদের সঙ্গে প্রতিহিংসাপরায়ণ কোনো আচরণ করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জোটের অন্যতম নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ শনিবার একটি অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি আলোচনা সভায় এলডিপির সভাপতি বলেন, ‘সরকার যতই চেষ্টা করুক জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো পরিকল্পনাই কাজ হবে না। সরকার যেভাবেই হোক ক্ষতায় থাকতে চায়। প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বিহিনীর ওপর ভর করে এবারের নির্বাচনে পার পাবে না আওযামী লীগ।’

‘৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও আজকের বাংলাদেশ, আসন্ন নির্বাচনে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশা এবং করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

অলি আহমেদ বলেন, ‘আমরা মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। আমরা বৈষম্য দূর করতে চাই। এ কারণে এখন থেকে আমাদের নিজ নিজ এলাকায় অধিক প্রচারণা চালাতে হবে। কারণ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদেরকে বিপুল ভোটে জয়ী হতে হবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের জন্য যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে তা পরিবর্তন করা হবে উল্লেখ করে অলি বলেন, ‘বর্তমানে সংবাদকর্মীদের গলা চেপে রাখা হয়েছে ডিজিটাল আইনের মাধ্যমে। আমরা ক্ষমতায় গেলে এই ডিজিটাল আইন সংশোধন করা হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো নির্যাতন করা হবে না। কারণ তারা বাধ্যগত কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেন।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের কৌশলে পরাজিত করা হবে। বেগম জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই কথার মধ্যে কোনো ভুল নেই। এই কথা খুবই সত্যি। কিন্তু তার মানে বেগম জিয়া জেল থেকে না বের হলে আমরা নির্বাচন করবো না তা কি বলছি। বলছি, এমন কৌশল নেবো, এমনভাবে লড়াই করবো যাতে শত্রুকে আমি পরাজিত করতে পারি।’

নির্বাচন কমিশনকে সরকারের দালাল উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে গিয়ে যখন আমরা বলছি এই কাঠামোতে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না তখন তারা বলছে- ‘দেখছি কী করা যায়’। কিন্তু আবার পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে বলে আমাদের প্রস্তাব তাদের মেনে নেয়া সম্ভব না।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা তার সেনাবাহিনী এখন শুনছে না। পুলিশ এখন আমাদের বলছে আন্দোলনের মাঠে অবস্থান করতে। বোঝাই যাচ্ছে, সরকারের ভিত নড়ে গেছে।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দুই মাস আগে প্রেসক্লাবের সামনে আমি দেখেছি পুলিশ আমাদের বলেছে, স্যার যায়েন না, এইখানে থাকেন। সেটা দুই মাস আগের কথা। এখনকার পরিস্থিতি তো আরও পরিবর্তন হয়েছে।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘২০১৮ সনের নির্বাচনটা অন্য নির্বাচন থেকে ভিন্ন। এবার জনগণ মুখ খুলেছে। গণতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে অঙ্গীকার আমরা দিয়েছিলাম তার জবাব দিতে চাই, জবাব নিতে চাই। ’

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ জুলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহিম, নাগরিক ঐক্যের নঈম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com