রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

নওগাঁয় আমনের ফলন ভালো হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮
নওগাঁয় আমনের ফলন ভালো হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় শুরু হয়েছে আগাম জাতের আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ। কৃষকরা তাদের ধানকে ঘরে তুলতে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে চলতি মৌসুমে আমনের ফলন ভালো হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে কারণ ধানের বাজার ভালো নয়।

জেলার দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠে চারিদিকে এখন সোনালী রঙের আমনের মৌ মৌ গন্ধ। বৃষ্টি নির্ভর আমন ধান এ বছর সেচ নির্ভর হওয়ায় কৃষকদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। অপরদিকে বাজারে নতুন ধানের দামও কম হওয়ায় লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় প্রায় ২ লাখ ২শত ৪৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে যা লক্ষমাত্রা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টি নির্ভর ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল পোরশা উপজেলায় ১৬ হাজার হেক্টর, সাপাহারে ১৬ হাজার ১শত ৫০ হেক্টর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ২৯ হাজার ৯শত ৪০ হেক্টর জমিতে আমানের আবাদ করা হয়েছে। এই তিন উপজেলার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি খরায় আক্রান্ত হয়। তীব্র খরায় আক্রান্ত ছিল ৫শত হেক্টর এবং ১শত ৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব নয়। এ বছর প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকের ঘরে উঠবে বলে জানা গেছে।

এ বছর শুরু থেকেই বৃষ্টি তেমন একটা না হওয়ায় পুকুর, ডোবা, শ্যালো মেশিন ও গভীর নলকুপ দিয়ে আমনের আবাদ করতে হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকদের অন্য উপায়ে পানি দিতে গিয়ে ধান উৎপাদনে বাড়তি খরচ গুনতে হয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে উৎপাদন সক্ষম উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-৪৭, ৪৯, ৬২. বিনা-৭, স্বর্ণা-৫, আতপ ও সোনার বাংলা জাতের ধানের ভাল ফলন হয়েছে। ভালো ফলন হলেও বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষকরা।

নওগাঁয় আমনের ফলন ভালো হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

জেলার পোরশায় বারিন্দার হুমায়ন কবির ও জালুয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, বিঘা প্রতি ১৫-১৬ মণ ধানের আবাদ হয়েছে। এদিকে শ্যালো মেশিন দিয়ে ধানের আবাদ করতে গিয়ে বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে। অনেক জায়গায় পানির অভাবে ধান পুড়ে মারা গেছে। বাজারে নতুন ধান প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৬৫০ টাকায়। ফলে ধান বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচ উঠলেও লাভ হবে না।

মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ী গ্রামের কৃষক বজু গোপাল বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে সোনার বাংলা জাতের ধানের আবাদ করেছেন। যে সময় ধান বের হয় তখন পানির সংকট দেখা দেয়। ফলে ধানের দানা তেমন পরিপুষ্ট হয়নি। এতে উৎপাদনে বিঘাপতি ৩-৪ মন ধান কম হয়েছে।

ধামইরহাট উপজেলার ধানতাড়া গ্রামের কৃষক আবুল হাসান বলেন, এ বছর বৃষ্টি না হলেও কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ হয়নি ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় ফলন অনেকটাই ভালো হয়েছে। তবে কৃষকরা ধানের দাম না পেলে আগামীতে ধানের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করা হলে কৃষকরা দাম পাবেন বলে আশাবাদী।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এবছর সুষম বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষককে সম্পূরক সেচে যেতে হয়েছে। এমনকি ধান রোপনের সময়ও বৃষ্টি হয়নি। ফলে বৃষ্টি নির্ভর আমন এবার সারা বছরই সেচ দিয়ে আবাদ করতে হয়েছে। এতে কিছুটা বাড়তি খরচ গুনতে হয়েছে কৃষকদের। জেলার বরেন্দ্র অঞ্চল সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর খরার কবলে পড়ে ফসল নষ্ট হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। মৌসুমের পরে যদি বাজার দর ভাল থাকে তাহলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কৃষকরা ২-৩ মাস ধান ধরে রাখতে পারলে ভাল দাম পাবেন। কিন্তু তাদের পক্ষে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে কৃষকের কথা ভেবে সরকারের ধানের বাজারের দিকে নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com