মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীর মোহনপুরে মাছের মড়ক,চাষীদের মাথায় হাত ।

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায়

এক দিকে লকডাউনের জেরে জীবিকা, কাজকর্ম, রোজগার সবই বন্ধছিল। পুকুরের মাছ ধরে বিক্রি করে মোহনপুর উপজেলার বহু মাছচাষী টাকা রোজগার করছিলেন। যা দিয়ে তাঁদের কোনও রকমে সংসার চলছিল। কিন্তু এই মড়কের ধাক্কায় তা-ও শেষ হয়ে গেল বলে জানাচ্ছেন অনেকে। বন্যার করণে বহু জায়গায় নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে গ্রাম। নদীর নোনা জল ঢুকে একদিকে যেমন গ্রামের পর গ্রাম চাষের জমি প্লাবিত হয়েছে তেমনই বিঘের পর বিঘে মিষ্টি জলের পুকুরে নোনা জল ঢুকে পড়েছে। আর সেই কারণে মাছের মড়ক শুরু হয়েছে এলাকায়।

মরা মাছের গন্ধে এখন এলাকায় টেকাই দায়। রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার চাষকৃত পুকুরে মাছে হঠাৎ মড়কে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে মৎস্য ব্যবসায়ীদের দাবী। আর সেই মরা মাছের গন্ধে প্রাণ ওষ্ঠাগত মানুষজনের। বুধবার ছিল কেশরহাট বার প্রতিদিনের মতো বাজারে স্বাভাবিক মাছ আসার কথা থাকলেও এক ঘন্টার মধ্যেই ট্রাক, ভুটভুটিযোগে হাটে শত শত মন মাছ আমদানি হতে থাকে। অতিরিক্ত মাছ আমদানির কারণে আড়ৎদাররা মাছ বেচা-কেনা বন্ধ করে দেয়। অতিরিক্ত মাছ আমদানির কারণ হিসেবে জানা গেছে, গত কাল মঙ্গলবার ভ্যাপসা গরমের পর হাল্কা বৃষ্টির কারণে অক্সিজেন শুন্যতায় বেশিরভাগ পুকুরের মাছ মরতে থাকে।

অতিরিক্ত মাছ আমদানির কারণে রাজশাহী-নওগাঁ মহসড়কের কেশরহাটের বড়ব্রীজ হতে কেশরহাট ডিগ্রী কলেজ এলাকার রাস্তা পর্যন্ত ঘন্টার পর ঘন্টা তীব্র যানজটের সৃস্টি হয়। পরে বিশাল মাছ বাজারে মাছ ধারণের ক্ষমতা উপচে গেলে কেশরহাট মাছ বাজারে মাছ বিক্রি হয়। বাজার ঘুরে দেখা গেছে ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের কাতলা,রুই মাছ ঠিকা দামে বিক্রি হয় ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়। প্রতি কেজি সিলভার কার্প বিক্রি হয় ১০ টাকা থকে ২০ টাকা কেজি দরে। সর্বোপরি দুপুর ১ টার দিকে অনেক মাছ পচে নষ্ট হওয়ার কারণে ফেলে পালিয়ে যায় মৎস্য ব্যাবসায়ীরা।

এখানে আসা মোহনপুর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের বিপ্লব নামে এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন হঠাৎ অক্সিজেন ঘাটতির কারণে মাছ মরে কয়েক লাক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু আমার পুকুরের মাছের এসমস্যা না অনকের পুকুরের মাছ মরে গেছে।কেশরহাটের মৎসচাষি মহব্বত আলী বলেন, অক্সিজেন ফেল করে এসমস্যায় আমার পুকুরের মাছ মরে গেছে।কেশরহাট মাছ বাজারের আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন বলেন হঠাৎ অতিরিক্ত মাছের আমদানী হয়। প্রায় মাছ পচে নষ্ট। ঢাকায় পাঠানোর উপযোগী ছিল না। এজন্য ডাকের মাধ্যমে মালিকরা নিজে ঠিকা দরে মাছ বিক্রি করে।

এখানে শুধু মোহনপুরের মাছ আসেনি, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, পবা,বাগমারা এবং বাগমারা উপজেলা হতে মাছ এসেছে। সব মিলে কয়েক কোটি টাকার মাছ আমদানি হলেও পুকুর মালিকদের দুর্দশা দেখে আড়ৎদারি ছাড়াই মাছ বিক্রির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বৃষ্টি কারণে হঠাৎ অক্সিজেন ঘাটতির,পানি দৃষণের কারণে হতে পারে তবে। তবে পুকুরের পানি পরিক্ষা আগে সঠিকভাবে কারণ নিধারণ করা সম্ভব নয়।

মেতাহারুল হাসান সুমন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
19202122232425
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com