বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

বাবরি মসজিদের বিকল্প জায়গায় হাসপাতালও হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প স্থান হিসাবে যে পাঁচ একর জমি দেওয়া হয়েছে সেখানে মসজিদের আগে একটি হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প স্থান হিসাবে যে পাঁচ একর জমি দেওয়া হয়েছে সেখানে মসজিদের আগে একটি হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উত্তর প্রদেশ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে মসজিদ নির্মাণের যে বিকল্প জায়গা দেওয়া হয়েছে, সেখানে নির্মাণের সব দায়িত্ব বর্তেছে এই ট্রাস্টের ওপর।

নতুন জায়গাটি বাবরি মসজিদ – রাম মন্দির থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে, ধন্নিপুর গ্রামের একটি সরকারি কৃষি খামারে। সেখানে এখনও কৃষিকাজ চলছে, একটি দরগাও রয়েছে।

নতুন পরিসরে মসজিদ যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে হাসপাতাল, যৌথ রান্নাঘর এবং ভারতীয়-ইসলামিক গবেষণা কেন্দ্র।

ট্রাস্টের সচিব আতহার হুসেন বলেন, ‘নতুন এই পরিসরটিকে বাবরি মসজিদ বলা হবে না। এর নাম হবে ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট কমপ্লেক্স।’

তিনি বলেন, ‘ওখানে একটি মসজিদ থাকবে ঠিকই, কিন্তু হাসপাতাল, যৌথ রান্নাঘর, একটি ইন্দো-ইসলামিক গবেষণাকেন্দ্র এবং একটি সংগ্রহশালাও থাকবে। ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইসলামিক সংস্কৃতির মিলন, ভারতীয় সমাজের ওপরে তার প্রভাব – এসব নিয়েই গবেষণা হবে সেখানে।’

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার স্থাপত্য বিভাগের ডিন অধ্যাপক এস এম আখতার জানান, নতুন এই পরিসরটি একেবারেই পুরোনো বাবরি মসজিদের মতো দেখতে হবে না। আধুনিক ভবন তৈরি হবে সেখানে।

তিনি বলেন, ‘স্থাপত্যবিদ্যায় কোনো কিছুই হুবহু নকল হয় না, সবসময়েই নতুন কিছু সৃষ্টি হয়। যা কিছু পুরোনো, তা পুরাতত্বের বিষয় আর আমরা যখন কিছু বানাই, সেটা হয় নতুন সৃষ্টি।’

‘তিন গম্বুজওয়ালা যে বাবরি মসজিদের ছবি মানুষের মনে গেঁথে আছে, সেটার মতো কখনই হবে না নতুন জায়গাটি। পুরোনো বাবরি মসজিদের নকল যেমন হবে না, তেমনই মানবিকতা, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইসলামের মূল চিন্তা— তিনটি বিষয়ই একত্রিত হবে নতুন পরিসরের নকশায়’ বলেন অধ্যাপক আখতার।

ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সচিব আতহার হুসেন জানান, তারা চাইছেন করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে অযোধ্যা ফৈজাবাদের মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে প্রথমে হাসপাতাল ভবনটি তৈরি করতে।

তিনি বলেন, ‘সবকটি ভবন তৈরির কাজ একই সঙ্গে চলবে, কিন্তু প্রথমেই হাসপাতালটি চালু করার ইচ্ছা আছে। মহামারির সময়ে হাসপাতালে শয্যার অভাবে কীভাবে মানুষ মারা যাচ্ছেন, সবাই দেখছে। অন্তত একটা জেলার মানুষকে তো বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাবে হাসপাতালটি চালু হয়ে গেলে!’

আতহার হুসেন ও স্থপতি আখতার দুজনেই জানিয়েছেন, নতুন পরিসরটিকে তারা একটি ল্যান্ডমার্ক হিসাবে তৈরি করতে চান, যা ভবিষ্যতের আইকন হয়ে উঠবে।

এই পরিসর তৈরির সময়ে দুজনের কেউই যেমন পিছনের দিকে তাকাতে চাইছেন না, তেমনই পুরোনো বাবরি মসজিদের জায়গায় যে বিশাল রামমন্দির গড়ে উঠতে চলেছে, তার সঙ্গেও এর তুলনা করতে চাইছেন না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
19202122232425
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com