রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

পুলিশ হেফাজতে মৃত‌্যু: ৫ আসামির সর্বোচ্চ সাজা চায় জনির পরিবার

নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
পুলিশ হেফাজতে ইশতিয়াক হোসেন জনি নামের এক গাড়িচালকের মৃত‌্যুর অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানার সাবেক উপ-

পুলিশ হেফাজতে ইশতিয়াক হোসেন জনি নামের এক গাড়িচালকের মৃত‌্যুর অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আগামীকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ধার্য রয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করবেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মামলার প্রথম রায়। রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে নিহত জনির পরিবার।

জনির মা খুরশিদা বেগম বলেছেন, ‘যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, ওর দুই ছেলে-মেয়েকে এতিম করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। এ সাজা দেখে পরবর্তীতে আর যেন কেউ এ ধরনের কাজ করতে সাহস না পায়। আমার বুক খালি করছে, আর যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।’

মামলার বাদী নিহত জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি বলেছেন, ‘মামলা তুলে নিতে আসামিরা হুমকি দিয়েছে। আপোসও করতে চেয়েছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে এসেছে। এখন আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রত্যাশা করছি। তাদের সাজা হলে পরবর্তীতে কেউ আর এ ধরনের কাজ করবে না। এটা একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।‘

সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, ‘মানুষ পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে মারা যাবে, এটা সরকার বা জনগণের কাম্য নয়। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর আগে সবাই একটু চিন্তা করবে, ভয় পাবে। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি, তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে।’

অন‌্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য নয়। আর রাষ্ট্রপক্ষও আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আশা করছি, আসামিরা খালাস পাবে।’

পুলিশ হেফাজতে জনিকে হত্যার অভিযোগে ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট আদালতে মামলা দায়ের করেন তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে পল্লবী থানার ইরানি ক্যাম্পে জনৈক বিল্লালের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। জনি, রকিসহ অন্যরা সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রাত ২টার দিকে পুলিশের সোর্স সুমন মদ খেয়ে স্টেজে উঠে মেয়েদের উত্যক্ত করছিলেন। জনি তাকে প্রথমে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেন। দ্বিতীয়বার সুমন একই কাজ করলে সুমনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জনি সুমনকে থাপ্পড় মারেন। এর আধা ঘণ্টা পর এসআই জাহিদসহ ২৫-২৬ জন পুলিশ নিয়ে বিয়েবাড়িতে এসে ভাঙচুর করে জনি, রকিসহ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর এসআই জাহিদসহ অপর আসামিরা তাদের পল্লবী থানা হাজতে হকিস্টিক ও ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে বেদম পেটায়। জাহিদ জনির বুকের ওপর উঠে লাফালাফি করেন। জনি এ সময় একটু পানি খেতে চাইলে জাহিদ তার মুখে থু থু দেন। নির্যাতনের ফলে রকি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জনিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশ দাবি করে, ইরানি ক্যাম্প ও রহমত ক্যাম্পের মধ্যে সংঘর্ষে জনি নিহত হয়েছেন।

আদালত এ মামলায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল এ মামলায় এসআই জাহিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। গত ২৪ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ ও পুলিশের সোর্স সুমন কারাগারে আছেন। একই থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম জামিনে আছেন। এসআই কামরুজ্জামান মিন্টু এবং পুলিশের সোর্স রাসেল জামিনে নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, পুলিশ হেফাজতে ঝুট ব্যবসায়ী সুজনের মৃত্যুর মামলাতেও আসামি এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ। ওই মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
19202122232425
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com