সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪৯ অপরাহ্ন

সচল হবে দেশের অর্থনীতির চাকা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সচল হবে দেশের অর্থনীতির চাকা

ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল রেল লাইনের নির্মাণ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ২০২২ সালের জুনের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মোঃ নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন পর্যন্ত ডাবল রেললাইনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন খাল-বিল, নদী- নালার ওপর নির্মিত ব্রিজ ও কালভার্টের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। এই কাজগুলো সম্পন্ন হলেই ২০২২ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল রেললাইনে ট্রেন চলে খুলে দেওয়া হবে।’ গতকাল রোববার বিজয় এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে কুমিল্লা রেল স্টেশনে বিরতির সময় তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

রেলপথ মন্ত্রী কুমিল্লা রেল স্টেশনের প্লাটফর্ম নির্মাণ ও ভবন সংস্কারের বিষয়ে বলেন, ‘ডাবল রেললাইনের প্লাটফর্মের চেয়ে বর্তমান প্লাটফর্মটি নিচু হয়ে গেছে। সংস্কার করে সেটিকে সমান করা হবে।’ তিনি ট্রেন থেকে নেমে কুমিল্লা রেল স্টেশন এবং রেল লাইনের নির্মাণ কাজের খোঁজ-খবর নেন। সেখানে রেল শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা রেলের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মুরসালিন রহমান, স্টেশন মাস্টার মো. শফিকুর রহমান, রেল নিরাপত্তা এসআই মঞ্জুর রহমান, শ্রমিকলীগ সেক্রেটারি মইনুল ইসলাম ভূঁইয়া, রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ ইসমাইল হোসেন ও লিয়াকত আলী মজুমদার।

ডাবল রেল লাইনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে জ্বালানি তেল খরচ যেমনি কমবে তেমনি সময়েরও সাশ্রয় হবে, কমবে দূরত্ব, একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে এ পথে ট্রেনে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বাণিজ্যিক শহর হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামে পৌঁছাতে লাগছে সোয়া পাঁচ ঘণ্টা। পুরো পথ ডাবল লাইন হলে মাত্র সোয়া তিন ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন ভ্রমণ সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাবল রেললাইন নির্মাণ করতে দিন-রাত কাজ করছেন দেশি বিদেশি শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল রেললাইনের নির্মাণ কাজের ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের (কুমিল্লার লাকসাম-আখাউড়া) ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এ অংশের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে নির্মিত ১৩৫ কিলোমিটার ডাবল লাইনের সুফল মিলবে। ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণকাজ সমাপ্ত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পুরোটাই (৩২৫ কিলোমিটার) ডাবল লাইনে উন্নীত হবে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াতে সময় কমবে প্রায় দুই ঘণ্টা। একইসঙ্গে একাধিক সরাসরি ট্রেনসহ আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করা যাবে। এজন্য প্রকল্প সমাপ্ত হওয়ার সময় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৩২৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ডুয়েলগেজ ছিল ১১৮ কিলোমিটার। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পুরো রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে এ রেললাইনের (ঢাকা-চট্টগ্রাম) ২৫৩ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ লাইনে উন্নীত হয়েছে। অবশিষ্ট ছিল কুমিল্লার লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার। আগামী জুনের মধ্যে এ অংশটিও ডুয়েলগেজ-ডাবল লাইনে উন্নীত করার লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে নির্মাণ কাজ চলছে।

লাকসাম-আখাউড়া রেলপথটি ডুয়েলগেজে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০১৪ সালে ডিসেম্বরে অনুমোদন পায়। ঠিকাদার নিয়োগে ২০১৫ সালের ৪ মে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০১৬ সালের ১৫ জুন ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ছয় হাজার ৫০৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে এডিবি ঋণ দিচ্ছে চার হাজার ১১৮ কোটি ১৪ লাখ ও ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) দিচ্ছে এক হাজার ৩৫৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বাকি এক হাজার ২৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, লাকসাম-আখাউড়া ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্পের আওতায় ১৪৪ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ মেইন লাইন ও ৪০ দশমিক ৬০ কিলোমিটার লুপ লাইন নির্মাণ করা হবে। মেইল লাইনে ১৩২ পাউন্ড ও লুপ লাইনে ৯০ পাউন্ড রেলপাত ব্যবহার হবে। এছাড়া ১১টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, ১৩টি মেজর ও ৪৬টি মাইনর ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। ১১টি স্টেশনের ভবন নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে। ৬৮ হাজার ১৯০ বর্গমিটারের ইঞ্জিনিয়ার্স অফিস নির্মাণ করা হবে।

এদিকে, আখাউড়া-লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইন প্রকল্প সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দ্রুততার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা অত্যাধুনিক মেশিন ও যন্ত্রাংশের সাহায্যে প্রকল্পের কাজ চলছে। ডাবল লাইন নির্মাণের পাশাপাশি এ পথের বিদ্যমান লাইনও ডুয়েল গেজে রূপান্তরের কাজ সমান্তরালে চলছে।

‘আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ ও বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পটির পরিচালক ডিএন মজুমদার দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, ‘এ প্রকল্প যথাসময়ের মধ্যে সমাপ্ত করতে ব্যাপক চাপ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল রেল লাইনের নির্মাণকাজের ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছেন। ছয় হাজার ৫০৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত হবে ২০২২ সালের জুনে।’ তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পটি জয়েন্ট ভেঞ্চার গ্রুপের মাধ্যমে কাজ করছে। চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন, বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিটিএম জয়েন্ট ভেঞ্চার)। এরইমধ্যে লাকসাম-আখাউড়া রেলপথের ডুয়েলগেজ কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com