শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

দুর্নীতি বন্ধে চালু হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
দুর্নীতি বন্ধে চালু হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতি

ধান-চাল সংগ্রহ ও বিতরণে দুর্নীতি বন্ধে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করছে সরকার। এ জন্য মিল মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা সিদ্ধ ও আতপ চালের বস্তায় দেওয়া হবে ডিজিটাল সিল। একইভাবে এখন থেকে ওএমএস, খাদ্যবান্ধব টিআর, কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআর, ইপি-ওপিসহ বিভিন্ন খাতে খাদ্য অধিদপ্তরের চালের বস্তার গায়ে দেওয়া হবে বিতরণকৃত স্টেনসিল মার্ক। আগামী বুধবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ডিজিটাল এ পদ্ধতি চালু করা হবে। আগামী আমন মৌসুম থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু হবে সংগ্রহ কার্যক্রম। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের বিতরণ করা চালের বস্তায় অমোচনীয় লাল কালির এই স্টেনসিলই বলে দেবে ওই চাল কোন জেলা, উপজেলা, খাত, মাস, সন, এলএসডি ও সিএসডি বা কোন প্রতিষ্ঠানের। ফলে কোথাও চুরির চাল ধরা পড়লে ডিজিটাল সিল দেখেই বোঝা যাবে কারা এর সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে বস্তার গায়ে ‘শুধু খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য তৈরি’ লেখা থাকে। ফলে চুরির চাল কোন জেলা-উপজেলার বা কোন গুদামের, তা কেউ স্বীকার করে না। ধরা পড়ে না মূল অপরাধী। একই সঙ্গে মিল মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা সিদ্ধ ও আতপ চালের বস্তায় দেওয়া হবে স্পষ্ট ডিজিটাল সিল। এ সিলে থাকবে মিলের নাম-ঠিকানা, সংগ্রহের মৌসুম, খাদ্যগুদাম, জেলার নাম ও উৎপাদনের সময়। তথ্যবহুল ও স্পষ্ট ডিজিটাল এই সিল দেখে সহজেই বোঝা যাবে, কোন বস্তার চাল কোন মিল মালিকের। ফলে কোনো মিল মালিক খারাপ বা পচা চাল সরকারের কাছে বিক্রি করলে পরবর্তী সময়ে সহজে তা চিহ্নিত করা যাবে। বর্তমানে চাল সংগ্রহের বস্তায় অস্পষ্ট ছোট একটি সিল দেওয়া হয় এবং অল্প দিনের মধ্যে মুছে যায়। তাই সরবরাহকৃত চাল খারাপ বা পচা হলে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও সঠিক অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারেন না। মিল মালিকরাও স্বীকার করেন না।

এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সমকালকে বলেন, প্রায় সময়েই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি চাল চোর ধরা পড়ছে। করোনাকালের মহাদুর্যোগের সময়েও অনেক চাল চুরি হয়েছে। অনেক মিল মালিক গুদামে পচা চাল দিচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীদের ধরার কোনো উপায় ছিল না। চাল-ধান সংগ্রহ ও বিতরণে দুর্নীতি বন্ধ করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য বিভাগের দুর্নীতি বন্ধে পর্যায়ক্রমে সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনুমোদন দিয়েছেন।

খাদ্য বিভাগের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সরকারি চাল চুরিতে জড়িত অনেকে ধরা পড়ছে। এসব অপরাধের সঙ্গে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। চুরির চালের বস্তা ধরা পড়লেও সংশ্নিষ্টরা নানা অজুহাতে বলেন, এটা তার গুদামের চাল নয় অথবা পাশের উপজেলা বা জেলার। নানা ধরনের ফাঁকফোকর দিয়ে আসল অপরাধীরা বেরিয়ে যায়। আবার অনেক চাল ব্যবসায়ী খাদ্যগুদামের বস্তায় চাল রাখায় বা সরকারি অনুদানের চাল সংশ্নিষ্টদের কাছ থেকে কেনার পর হয়রানির শিকার হন। কারণ, ব্যবসায়ীরা কোন ব্যক্তি বা খাতের চাল কিনেছেন তা বস্তা দেখে চিহ্নিত করার উপায় ছিল না। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত চাল ব্যবসায়ীদের কাছে খাদ্যগুদামের চালের বস্তা পেলে চাল কেনার কাগজপত্র দেখতে চাইতেন। কোনো ব্যবসায়ী চাল কেনার পরও যথাযথ কাগজ দেখাতে না পারলে হয়রানির শিকার হতেন। এখন থেকে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা, সিএসডি-এলএসডির সুনির্দিষ্ট কোড নম্বর অমোচনীয় লাল কালিতে চালের বস্তার গায়ে লেখা থাকবে। বস্তা উৎপাদনের মাস, সন এবং খাতের নাম দেখে বোঝা যাবে, ব্যবসায়ীরা চালের বস্তা কোথায় পেয়েছেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ সমকালকে বলেন, এলএসডি ও সিএসডি থেকে খাদ্যশস্য বিতরণকালে খাতভিত্তিক ‘বিতরণকৃত’ স্টেনসিল না দিলে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রমিক-ঠিকাদাররা অনেক সময় শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের বিল পরিশোধ করেন না। এ জন্য সিল দিতে কোনো ধরনের ভুল হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ খাতে মাস্টাররোলে শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে স্টেনসিল মার্ক দেওয়ার জন্য মাস্টাররোলে শ্রমিক নিয়োগ করা হবে।

জানা গেছে, স্টেনসিল দেওয়ার কাজ শ্রম হস্তার্পণ ঠিকাদার দ্বারা নিয়োজিত শ্রমিকদের দ্বারা পূর্বনির্ধারিত কাজের অতিরিক্ত হিসেবে সংযুক্ত করে সম্পাদনের ব্যবস্থা করতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের চিঠি দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ-সংক্রান্ত বিল সংশ্নিষ্ট বিষয় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা মনিটর করবেন। এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিককে অবশ্যই অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চলাচল, সংরক্ষণ ও সাইলো) আব্দুল্লাহ আল মামুন সমকালকে বলেন, এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের বস্তার গায়ে ডিজিটাল স্টেনসিল দেওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল এ পদ্ধতি দেশব্যাপী শুরু হবে। এর পর আগামী আমন মৌসুমে মিল মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা চালের বস্তায় দেওয়া হবে ডিজিটাল সিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী সমকালকে বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাতভিত্তিক চালের বস্তায় বিতরণকৃত স্টেনসিলের পাইলটিং শুরু হয়। ছয় মাস পাইলটিং শেষে এখন পুরোদেশে শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহের পাইলটিংও সফলভাবে শেষ হয়েছে।

জানা গেছে, বিতরণ করা স্টেনসিলটি অবশ্যই কম্পিউটার কম্পোজ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অমোচনীয় রং ছাড়া অন্য রং ব্যবহার করা যাবে না। সিলটির হাতলওয়ালা কাঠের ফ্রেম (৮ দশমিক ২৫ ও ৪ দশমিক ২৫ ইঞ্চি) ও রাবার স্ট্যাম্প (৮ ও ৪ ইঞ্চি) দিয়ে তৈরি করতে হবে। আধা লিটার শতভাগ লাল রঙের সঙ্গে ২ লিটার ফ্লেক্সো থিনার মিশিয়ে লাল রঙের মিশ্রণ তৈরি করতে হবে এবং ট্রের মধ্যে রাখা ফোমে রঙের মিশ্রণ ঢেলে রাবারস্ট্যাম্পে ছাপ দিয়ে বিতরণকৃত খাদ্যশস্যের বস্তায় স্টেনসিল মার্ক দিতে হবে। আর সংগ্রহের ডিজিটাল স্টেনসিলের স্ট্ক্রিনপ্রিন্টের ভেতরের সীমানার মাপ হবে ১৬ ু ১৪ ইঞ্চি। মূল অক্ষর ও সংখ্যার আকার ১ দশমিক ২৫ থেকে ১ থেকে দশমিক ৫ ইঞ্চি হবে। স্ট্ক্রিনপ্রিন্টের ওপর রং ঢেলে দেওয়ার জন্য কাঠের সঙ্গে রাবার যুক্ত করে একটি কাঠের হ্যান্ডল তৈরি করতে হবে। বালতিতে ৫ লিটার পানি দিয়ে তার মধ্যে ৩০ গ্রাম বা দুই চা চামচ সবুজ রং মেশাতে হবে। এর পর ১৫০ মিলি সাদা গাম ঢেলে ৮ থেকে ১০ মিনিট ভালোভাবে নাড়তে হবে, যাতে সবুজ রঙের গাড় মিশ্রণ তৈরি হয়। এর পর বস্তার ওপর ডিজিটাল সিল দেওয়া যাবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
19202122232425
2627282930  
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com