মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০১:১০ অপরাহ্ন

ইঁদুর নিধনে প্রশিক্ষণ দেবেন ৬ শতাধিক শিকারি

নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০
প্রতি বছর ইঁদুরের পেটে যাচ্ছে ৫০ লাখ মানুষের খাবার।  ইঁদুরের হাত থেকে এই বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য রক্ষায় ৬ শতাধিক ইঁদুর শিকারির তালিকা করেছে সরকার।  এই শিকারিরা ইঁদুর নিধনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন। 

প্রতি বছর ইঁদুরের পেটে যাচ্ছে ৫০ লাখ মানুষের খাবার।  ইঁদুরের হাত থেকে এই বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য রক্ষায় ৬ শতাধিক ইঁদুর শিকারির তালিকা করেছে সরকার।  এই শিকারিরা ইঁদুর নিধনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তর (ডিএই) একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সারাদেশ থেকে ৬১৫ জন ইঁদুর শিকারি শনাক্তের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই শিকারিরা ইঁদুর নিধনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন। ’

 

এ বিষয়ে ডিএইর মহাপরিচালক মো. আবদুল মুঈদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ পুল তৈরি হয়েছে। ডিএই বহু বছর ধরে ইঁদুর নির্মূল কার্যক্রমকে উৎসাহিত করে আসছে। সারাদেশে ৬১৫ জন শিকারি বাছাই করা হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম। ডিএই শিকারিদের দক্ষতার জন্য অর্থায়ন করবে। আর শিকারিরা অন্যদের কৌশল শেখাবেন।’

ডিএই-এর এই উদ্যোগের প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান বলেন, ‘ইঁদুর নিধনে সাপ, বাজপাখী, পেঁচার মতো শিকারি সংরক্ষণ আরও টেকসই হবে।’

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণভিটা গ্রামের কৃষক সোম টুডু একজন ইঁদুর শিকারি।  তিনি বলেন, ‘আমি অনেক দিন বছর ধরে ইঁদুর শিকার করে আসছি। প্রতি বছর আমার জমিতে যে পরিমাণ ধান পাওয়ার কথা, তা পাচ্ছিলাম না। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে জমিতে অসংখ্য ইঁদুরের গর্ত দেখি।  গর্ত খুঁড়ে প্রত‌্যেক গর্ত থেকে ৭/৮ কেজি করে ধান পাই।  এরপর থেকে ফাঁদ পেতে নিয়মিত ইঁদুর শিকার করছি। ’

ইঁদুর শিকারিদের যে তালিকা ডিএই করেছে, তাতে সোম টুডুরও নাম আছে।  এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরেই ফাঁদ পেতে ইঁদুর ধরছি। পাশাপাশি অন্যদের এই ফাঁদ সম্পর্কে শেখাচ্ছি।  তবে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যে তালিকা করেছে, সে বিষয়ে কিছুই জানি না।’

সোম টুডু আরও বলেন, ‘আমন ধানের জমিতে ইঁদুরের অত্যাচার এতটাই বেড়েছিল যে, প্রতি রাতে গড়ে ৫০টি ইঁদুর ফাঁদে ফেলে ধরেছি।  এক-একটি ইঁদুরের ওজন ৩০০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম।’

ডিএই-এর উদ্ভিদ সুরক্ষা শাখা ইঁদুর প্রতিরোধ সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দেশে ১৮ রকমের ইঁদুর চিহ্নিত করা হয়েছে।  এর বেশিরভাগই ফাঁদ পেতে নির্মূল করা যেতে পারে।

এদিকে, ২০১৭ সালের এক হিসাবে দেখা গেছে, ওই বছর  দেশে ৩ দশমিক ৭ কোটি টন ধান, গম, ভুট্টা ও ৩০ দশমিক শূন‌্য ৬ লাখ টন সব্জি উৎপাদন হয়েছিল, তবে ইঁদুর ১৫ লাখ টন ধ্বংস করে।

এর আগে, ২০১৫ সালে তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সংসদে বলেছিলেন, ইঁদুরের কারণে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ধান, চাল ও গমসহ খাদ্যশস্যের ক্ষতি হয়েছে। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৭২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ‘ফাঁদ ও বিষ দিয়ে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়।  এর চেয়ে প্রাকৃতিক উপায় অনেক বেশি কার্যকর। ’

ডিএই-এর ইঁদুর শিকারি তালিকাভুক্ত মুন্সীগঞ্জের শ্যামা প্রসাদ সাহা বলেন, ‘আমার রাইস মিলে ইঁদুরগুলো প্রতিদিনই ধান-চালের বস্তা কেটে ফেলতো।  ফাঁদ পেতে  ইঁদুরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কবির বলেন, ‘দেশে ইঁদুরের আক্রমণে বছরে আমন ধানের শতকরা ৫-৭ ভাগ, গম ৪-১২ ভাগ, গোল আলু ৫-৭ ভাগ, আনারস ৬-৯ ভাগ নষ্ট হয়। গড়ে মাঠ ফসলের ৫-৭ শতাংশ এবং গুদামজাত শস্য ৩-৫ শতাংশ ক্ষতি করে ইঁদুর।’

আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, এশিয়ায় ইঁদুর বছরে যা ধান-চাল খেয়ে নষ্ট করে, তা ১৮ কোটি মানুষের এক বছরের খাবারের সমান। বাংলাদেশে ইঁদুর ৫০-৫৪ লাখ লোকের এক বছরের খাবার নষ্ট করে।  এছাড়া ইঁদুরের মাধ্যমে মোট ৬০ ধরনের রোগ ছড়ায়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
     12
24252627282930
31      
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com