যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ বিবেচনা করছে ইরান। পাকিস্তানে দেশটির সঙ্গে আলোচনার আয়োজন ভেস্তে যাওয়ার পর এ তথ্য সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা এই অনুরোধ পর্যালোচনা করছে। তবে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দিচ্ছে না। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, তারা একটি নতুন কৌশল ও চুক্তির প্রস্তাব প্রস্তুত করছেন। তবে তার আগে তারা যুদ্ধের অবসান চায়। ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর বিষয়ে নিশ্চয়তার দাবি করছে দেশটি।
আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের বর্তমান প্রস্তাবে প্রথমে যুদ্ধের সমাপ্তি, এরপর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও আস্থা পুনর্গঠন, এবং তারপর পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথাও বলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসলামাবাদে আলোচনায় দৃশ্যমান ফল না আসার পর রাশিয়া সফরে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিশেষ বার্তা নিয়ে তিনি মস্কো যান। গত সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা। বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে মস্কো প্রস্তুত।
এর আগে ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন আরাগচি। পাশাপাশি ইরানের নেতারা সম্ভাব্য ফের হামলার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে।
গতকাল আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এই শান্তি যত দ্রুত সম্ভব অর্জিত হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা আপনাদের স্বার্থ এবং এই অঞ্চলের সব মানুষের স্বার্থে সম্ভাব্য সবকিছু করব।’
পুতিন আরও বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, এই সাহস ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার ওপর ভর করে ইরানের জনগণ বর্তমান সংকটকাল অতিক্রম করবে এবং শান্তি ফিরে আসবে।’
রাশিয়ার সমর্থনের জন্য মস্কোকে ধন্যবাদ জানিয়ে আব্বাস আরাগচি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে। সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে, ইরানের জনগণ তাদের প্রতিরোধ ও সাহসের মাধ্যমে মার্কিন হামলা ও আগ্রাসন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই কঠিন সময়ও তারা টিকে থাকতে পারবে।
বৈঠকের শুরুতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসানে সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে তার। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান ইগর কস্তিউকভ। অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদলে আরাগচি ছাড়াও ছিলেন তার ডেপুটি কাজেম গরিব-আবাদি এবং মস্কোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি।