বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এবারও শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। লিওনেল স্কালোনি ও মেসির দল এবারও অন্যতম ফেভারিট। তাদের সামনে রয়েছে ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় কোনো দেশ হিসেবে পরপর বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ। ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ এবং ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে পরপর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
চার বছর আগের মতো এবারও শান্ত আছেন স্কালোনি। তিনি জানেন, আর্জেন্টাইনরা তার কাছ থেকে শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যাশাই করছে এবং ব্যর্থতা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। আরেকবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিশনে নামার আগে স্কালোনির ভাষ্য, ‘আমরা ভালো আছি এবং মুখিয়ে আছি। আমরা জানি প্রতিপক্ষরা আমাদের ভিন্নভাবে দেখবে, কারণ আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা সেখানে থাকব। এরপর তো ফুটবল, সেখানে যেকোনো কিছুই হতে পারে।’
এর আগে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি প্রথম গড়েছিল ইতালি। ১৯৩৪ সালে নিজেদের মাটিতে চেকোস্লোভাকিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৩৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আসরে তারা যায় দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে। কিংবদন্তি কোচ ভিট্টোরিও পোজোর অধীনে তারা তখন টানা অপরাজিত ছিল, তাদের সেই জয়ের ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত চার বছরে ৩০ ম্যাচে গিয়ে দাঁড়ায়।
ওই সময়ের মধ্যে ১৯৩৬ সালের অলিম্পিক ফুটবল টুর্নামেন্টেও স্বর্ণপদক জেতে ইতালি। এরপর ১৯৩৮ বিশ্বকাপে নরওয়ে, স্বাগতিক ফ্রান্স ও ব্রাজিলকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আজ্জুরিরা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলে হারায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় পরবর্তী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫০ সালে। যেখানে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ায় টানা তিন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ইতালির। ১৯৬২ সালে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল
পরপর দুই বিশ্বকাপজয়ী দ্বিতীয় দল ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে তারা দুর্দান্ত নৈপুণ্যে শিরোপা জেতে, মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলে ছিলেন সেই অভিযানের তারকা। ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে সেলেসাওরা শিরোপা উৎসবে মাতে। ১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও শিরোপা ধরে রাখে তারা। গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে পেলে চোট পেয়ে ছিটকে গেলেও দলটি ছিল অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। গারিঞ্চা, ভাভা ও আমারিলদোরা ফাইনালে তোলেন ব্রাজিলকে। সেখানে আবারও চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে তারা।