কৃষি জমি ও প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা


, আপডেট করা হয়েছে : 26-05-2026

কৃষি জমি ও প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা

বাগমারার শ্রীপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত খয়রা বিলের রামগুইয়া ও বাঙ্গালপাড়া মৌজায় অবস্থিত প্রায় ৪০০ বিঘা উর্বর কৃষি আবাদী জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু কৃষিজমি রক্ষার বিষয় নয়; বরং এলাকার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের বিষয়।


স্থানীয়দের অভিযোগ, উক্ত কৃষিজমি ধ্বংস ও শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে বৃহৎ আকারে অবৈধ পুকুর খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা বিদ্যমান ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন, কৃষিজমি সংরক্ষণ নীতি এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।


স্থানীয় কৃষকদের দাবি, খয়রা বিলের উর্বর কৃষিজমির ওপর নির্ভর করেই তারা যুগের পর যুগ ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে আসছেন। এই কৃষিজমি নষ্ট বা এর শ্রেণি পরিবর্তন করা হলে হাজারো কৃষক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, রামগুইয়া গ্রামের কয়েকজন অতি স্বার্থন্বেষী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব-খাটিয়ে উক্ত  কৃষিজমির ব্যবহার অবৈধ পুকুর খননের মাধ্যমে  শ্রেণী পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে। যার ফলে তারা  সাধারণ কৃষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন সহ  নানাভাবে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রভাবিত করছে । স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তারা নিজেদের এতটাই প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করছে যেন এলাকায় তাদের সিদ্ধান্তই আইন হিসেবে কার্যকর। এলাকাবাসীর দাবি, পূর্বে কখনো এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না এবং এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয়দের মতে, প্রকৃতপক্ষে খয়রা বিল একটি প্রাকৃতিক উন্মুক্ত জলাশয় ও কৃষিনির্ভর বিলাঞ্চল, যা বর্ষাকালে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদনস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানকার কৃষক ও জেলেরা কৃষিকাজ ও মাছ আহরণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ধ্বংস হলে বহু মানুষ কর্মহীন ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এ ধরনের অবৈধ পুকুর খননের ফলে এলাকার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ, জলধারণ ক্ষমতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, মাটির উর্বরতা হ্রাস, প্রাকৃতিক জলাশয় বিলুপ্তি এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্বে অবৈধ খনন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঈদের পর পুনরায় অবৈধভাবে পুকুর খননের কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে। এতে কৃষিজমি, প্রাকৃতিক জলাশয়, পরিবেশ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ পুকুর খনন কার্যক্রম বন্ধ, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি, কার্যকর ও দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার