হরমুজ প্রণালিতে পাতা মাইন অপসারণের দায়িত্ব ইরানকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ কাজটি তেহরানের জন্য অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হোয়াইট হাউসের এক নথিতে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে থাকা সব মাইন ও অন্যান্য বাধা ইরানকেই সরিয়ে ফেলতে হবে।’
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নিলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
তবে বিষয়টিকে মোটেও সহজ মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যান্ড করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী স্কট স্যাভিটজ বলেন, ইরান মাইন পেতে দক্ষ হলেও মাইন অপসারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের একটি কাজ।
তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন, ধৈর্যসাপেক্ষ এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে হয়। প্রযুক্তিগতভাবেও এটি খুবই জটিল একটি প্রক্রিয়া।’
স্কট স্যাভিটজের মতে, ইরানের কাছে কিছু সোনার প্রযুক্তি ও সীমিত অনুসন্ধান সক্ষমতা থাকতে পারে। তবে সমুদ্রে পাতা প্রতিটি মাইনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করার সক্ষমতা তাদের আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান যদি পর্যাপ্ত দ্রুতগতিতে কাজ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও মাইন অপসারণে সহায়তা করতে পারে।
তিনি দাবি করেন, ‘এই মুহূর্তে সব মাইন কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের পূর্ণ ধারণা রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েকটি মাইন সরিয়ে ফেললেই আরও অনেক নৌপথ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।’
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।