বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলবে কবে?


, আপডেট করা হয়েছে : 30-06-2026

বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলবে কবে?

আকাশপথ ও সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ছিল। তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেনে দুই দেশের যাত্রীরা যাতায়াত করতেন। তবে প্রায় দুই বছর ধরে সেই সেবা বন্ধ রয়েছে।


এদিকে গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের মেডিকেল ভিসার পাশাপাশি পর্যটন ভিসাও চালু করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এরপর থেকেই আবার আলোচনায় এসেছে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলের বিষয়টি। প্রশ্ন উঠেছে, কবে আবার চালু হবে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ?


ঢাকা পোস্টের কাছে থাকা বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েকে পাঠানো সর্বশেষ চিঠির উত্তর এখনও আসেনি। নতুন করে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলে আবারও যোগাযোগ করা হবে।


বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ট্রেন চালু হওয়ার বিষয়টি মূলত ভিসা সহজ হওয়া, যাত্রীর সংখ্যা এবং সেবাটির বাণিজ্যিক লাভজনকতার ওপর নির্ভর করছে। এটি রাজনৈতিক নয়; বরং ব্যবসায়িক বাস্তবতা ও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়।

অন্যদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চালুর বিষয়ে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে।




বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ট্রেন চালু হওয়ার বিষয়টি মূলত ভিসা সহজ হওয়া, যাত্রীর সংখ্যা এবং সেবাটির বাণিজ্যিক লাভজনকতার ওপর নির্ভর করছে। এটি রাজনৈতিক নয়; বরং ব্যবসায়িক বাস্তবতা ও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়। ভিসা শিথিল হয়ে যাত্রী বাড়লে ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই দুই দেশ ট্রেন চালু করতে আগ্রহী হবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ।


কেন বন্ধ হলো বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন চলাচল?


বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী আন্তর্জাতিক ট্রেন চলাচল শুরু হয় ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ দিয়ে। পরে চালু হয় ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ এবং সর্বশেষ ‘মিতালী এক্সপ্রেস’। এই তিনটি ট্রেন দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।




মৈত্রী এক্সপ্রেস প্রথম চালু হয় ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল। এটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত চলাচল করত। তখন প্রায় ৪৩ বছর পর এই ট্রেনের মাধ্যমে দুই দেশের যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর চালু হয় বন্ধন এক্সপ্রেস, যা খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচল করত। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৭ মার্চ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চ্যুয়াল উদ্বোধনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে মিতালী এক্সপ্রেস। পরে ২০২২ সালের ১ জুন বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করে ট্রেনটি। এটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করত। বাংলাদেশ সীমান্তের চিলাহাটি ও ভারত সীমান্তের হলদিবাড়ি রেলপথ ব্যবহার করে সরাসরি রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে ট্রেনটি, যা পর্যটন ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।


তবে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় মৈত্রী এক্সপ্রেস ওই বছরের ১৬ জুলাই, বন্ধন এক্সপ্রেস ১৭ জুলাই এবং মিতালী এক্সপ্রেস ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে। সেই হিসেবে প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর দেশে থাকা ভারতীয় রেলওয়ের কোচ ও ওয়াগনগুলো ভারতে ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।


ভারতীয় রেলওয়েকে আগে যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তারও জবাব মেলেনি। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলে আবারও যোগাযোগ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে শুধু রেলপথ মন্ত্রণালয় নয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সম্পৃক্ত।

কী বলছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয়?


বাংলাদেশ রেলওয়ের একাধিক সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল নিয়ে শিগগিরই আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে একটি বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে। আগে মৈত্রী এক্সপ্রেস জয়দেবপুর, যমুনা সেতু, ঈশ্বরদী ও দর্শনা হয়ে চলাচল করত। এখন সেটি পদ্মা সেতু হয়ে চালানো যায় কি না, সেই বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার