হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি শুধু আলোচনার জন্য বলা হয়েছিল।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। তাই এর নাম আমরা ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করতে পারি কিনা?
তবে আন্তর্জাতিক এই জলপথের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ কীভাবে নেওয়া হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি নয় এবং এটি একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
এর আগে ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে বিরোধের মধ্যে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সরকারি ব্যবস্থায় নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও কানাডা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। গুগল ও অ্যাপল পরে তাদের মানচিত্রে নতুন নামটি যুক্ত করেছে।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। মেক্সিকোসহ কয়েকটি দেশ এই পরিবর্তন প্রত্যাখ্যান করেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প ও তার প্রশাসন বারবার দাবি করে আসছে, ইরান এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো।
তবে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই চলাচল আরও কমেছে বলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাইপলাইন দিয়ে যাওয়া তেলও হিসাব করলে অঞ্চলটি থেকে মোট তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এখন বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বুধবার সিএনবিসিকে বলেন, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ। সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো।