যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ৮ হাজার সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনী এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছে।
এর মাধ্যমে গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী পাঠানোর ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়াই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কার্যকর উদ্যোগ নিল। বর্তমানে নির্বাচিত সেনাদের তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গাজায় শান্তি ফেরাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ট্রাম্পের ২০ দফা সংবলিত শান্তি পরিকল্পনায় সম্মত হয়ে ইসরায়েল ও হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। ওই পরিকল্পনার অধীনে গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট সরকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি আন্তঃদেশীয় পরিষদ গঠন করা হয়েছে। গাজা পুনর্গঠন তহবিলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে ১০০ কোটি ডলার করে চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও পাকিস্তান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই বোর্ডের সদস্যপদ গ্রহণ করেছে এবং গত ১৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সেনা কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, সেনাদের প্রশিক্ষণ শুরু হলেও তাদের গাজায় পাঠানোর সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। এ বিষয়ে তারা দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন।
এদিকে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ‘কান’ তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে রাফাহ এবং খান ইউনিসের মধ্যবর্তী স্থানে ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনীর জন্য ব্যারাক নির্মাণের জায়গা ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত এই সেনারা মূলত গাজার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইএসএফ-এর অধীনে কাজ করবেন।
বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়া নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক সমালোচনা হলেও প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। সমালোচকদের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষায় অংশ নেওয়া ইন্দোনেশিয়ার নৈতিক দায়িত্ব।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইন্দোনেশিয়ার এই সাহসী পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। সেনাপ্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত সেনাদের এখন নিবিড় ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা গাজার সংবেদনশীল পরিবেশে সফলভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে।

