১০ মে ২০২৬, রবিবার, ০৪:১৭:৪৬ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে ফুয়েল কার্ডেও মিলছে না তেল: পাম্পে হাহাকার, কালোবাজারে চড়া দাম
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৪-২০২৬
রাজশাহীতে ফুয়েল কার্ডেও মিলছে না তেল: পাম্পে হাহাকার, কালোবাজারে চড়া দাম

সরকার নির্ধারিত নিয়মে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে 'ফুয়েল কার্ড' ব্যবস্থা চালু থাকলেও রাজশাহীর সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। 




অভিযোগ উঠেছে, পাম্পগুলোতে কার্ড থাকা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন না। অথচ পাম্পের ঠিক বাইরেই কিংবা অসাধু চক্রের মাধ্যমে চড়া দামে মিলছে পেট্রোল ও ডিজেল।


 


গত মঙ্গলবার ​সরেজমিনে নগরীর বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও ট্রাক চালকদের দীর্ঘ সারি। পাম্প কর্তৃপক্ষ সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছে, স্টকে তেল নেই অথবা সাপ্লাই কম।


মো সেতাব উদ্দীন  জানান, গত মঙ্গলবার রাতে তিনি একটি জ্বালানি তেল পাম্পে গিয়েও জ্বালানি কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পাননি। তবে অতিরিক্ত টাকা দিলে কালোবাজারির মাধ্যমে  সহজেই তেল পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরো জানান, কার্ড থাকা সত্বেও এ কালোবাজারি দের  কারনে তেল পাচ্ছেন না।


​জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে ফুয়েল কার্ড প্রথা চালু করা হয়েছিল। গ্রাহকদের অভিযোগ, কার্ড নিয়ে পাম্পে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কার্ড করা হয়েছে যাতে লাইনে দাঁড়াতে না হয় এবং সঠিক দামে তেল পাই। কিন্তু এখন কার্ড দেখালেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলা হচ্ছে তেল শেষ,  এটা স্পষ্টত কারসাজি।"




​স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু পাম্প মালিক এবং মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট করে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তারা পাম্পের তেল ড্রাম ভরে সরিয়ে ফেলছে এবং পরে তা খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি করছে। এতে করে স্বল্প আয়ের মানুষ এবং বিশেষ করে জরুরি সেবা প্রদানকারী যানবাহনগুলো বিপাকে পড়েছে।



​এদিকে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর স্থানীয় প্রতিনিধিরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড থাকার পরেও তেল না পাওয়াটা তদারকির অভাবকে নির্দেশ করে। জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দ্রুত পাম্পগুলোতে ঝটিকা অভিযান চালানো এবং কালোবাজারি রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।



শেয়ার করুন