১২ জুলাই ২০২৬, রবিবার, ০৯:৫৯:২৭ অপরাহ্ন
বাঁশখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা: উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী ও ইনসানিয়াত বিপ্লব
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৭-২০২৬
বাঁশখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা: উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী ও ইনসানিয়াত বিপ্লব

টানা চার দিনের প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলবর্তী উপজেলা বাঁশখালীর পুরোটাই এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যাকবলিত এই এলাকার লাখো মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সড়ক ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক এলাকা পুরোপুরি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষ ও গবাদি পশু একসাথে চরম অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে।


বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি, শেখের খিল, কাথারিয়া ও গন্ডামারা-সহ ৫ থেকে ৬টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হওয়ায় মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও ভোগান্তি আকাশচুম্বী রূপ নিয়েছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। দুর্গম এলাকাগুলো থেকে মানুষকে উদ্ধার, ত্রাণ সামগ্রী ও জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তারা।


এই মহাসংকটে বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে উপদ্রুত অঞ্চলে ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সংগঠনের সদস্যরা প্রতিকূল আবহাওয়া ও নানামুখী ঝুঁকি উপেক্ষা করে বিশেষ টিম গঠন করে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ বিতরণ চলমান রেখেছেন। পানিবন্দী অবস্থা থেকে ইতিমধ্যে কয়েকশত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকরা। একই সাথে দুর্গতদের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও জরুরি ওষুধ সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভলেন্টিয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ইনসানিয়াত বিপ্লবের কর্মীরা। এছাড়া বন্যার্ত ও অসুস্থ মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তারা একটি বিশেষ ফ্রি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সংগঠনটির দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত দেশ ও দেশের বাইরে থাকা সকল বিত্তবান ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষদের এই মহাসংকটে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বন্যার কারণে উপদ্রুত অঞ্চলের মানুষ ও গবাদি পশুর এই মানবেতর জীবন অত্যন্ত দুঃখজনক। খাদ্যাভাব, আশ্রয়হীনতা ও পানিবাহিত রোগের কারণে গরু-ছাগল চরম ঝুঁকিতে আছে। তাই দ্রুত নিরাপদ উঁচু স্থান, গো-খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা এখন অত্যন্ত জরুরী। যেকোনো দুর্যোগে এই ধরণের মানবিক পদক্ষেপ সমাজের বৈষম্য দূর করতে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে সাহায্য করে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বাঁশখালী ছাড়াও দেশের অন্যান্য সকল বন্যা কবলিত জেলা ও অঞ্চলেও ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিনিধিরা অসহায় মানুষদের উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

শেয়ার করুন