লোকসান কমাতেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি


, আপডেট করা হয়েছে : 21-09-2026

লোকসান কমাতেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি

মার্চ থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। এমন পরিস্থিতিতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। সরকারের দাবি, বিপিসির লোকসান ও ভর্তুকির চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে দাম বাড়ানোর ফলে ভোক্তার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। তাদের পরামর্শ, আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় তেল অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।


মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। এর মধ্যে বেশি দামে তেল কিনে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করায় মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসি নিজস্ব তহবিল থেকে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে।


এই লোকসান কমাতে মধ্যরাতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন দামে বিপিসির প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান কমবে।


জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেল প্রায় ৯০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছিল। এতে সরকারের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছিল। এ কারণে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।


একসঙ্গে লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের চাপ যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চাপ আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।


সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ভোক্তার জন্য বড় ধরনের চাপ হিসেবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরূল ইমাম। তার মতে, দাম সমন্বয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।


অধ্যাপক ড. বদরূল ইমাম বলেন, দেশীয় তেল অনুসন্ধান বাড়িয়ে নিজস্ব উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।


পাশাপাশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত কনডেনসেট ব্যবহার করে জ্বালানি তেল উৎপাদন ও এর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার