এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি


, আপডেট করা হয়েছে : 02-02-2024

এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিশ্বের এগিয়ে থাকা তিনটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া গত বছর ৩ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রকাশিত সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট স্যলুশন নেটওয়ার্কের (এসডিএসএন) এসডিজির বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসডিজির ২০২৩ সালের মূল্যায়ন সূচকে ২০২২ সালের তুলনায় ১৬৬ দেশের মধ্যে তিন ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১০১। তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১১২ ও ১২৮তম। এসডিজি সূচকে বাংলাদেশের অভীষ্ট অর্জনের সার্বিক স্কোর একশর মধ্যে ৬৫ দশমিক ৯। এসডিজির এই সাফল্যকে আরো এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এসে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের মেগা প্রকল্প এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

এসডিএসএনের এসডিজির স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন ২০২৩ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুণগত শিক্ষা ও টেকসই উৎপাদন অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে। এছাড়া দারিদ্র্য বিলোপ, ক্ষুধামুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি ও শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশ পরিমিতরূপে উন্নতি করছে।

এসডিএসএন জানায়, জেন্ডার সমতা, শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই নগর ও জনপদ, জলবায়ু কার্যক্রম, অংশীদারত্ব অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। অবশ্য এসব ক্ষেত্রে আরো বেশি উন্নয়ন ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। তবে জলজ জীবন, স্থলজ জীবন ও শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। এছাড়া অসমতা কমানোর অভীষ্ট অর্জনে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি রয়েছে। আর


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে এসডিজি বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়মিত হালনাগাদকরণের ওপর আরো জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে এসডিএসএন।

এসডিজির ১৭টি অভীষ্ট হলো- দারিদ্র্য বিলোপ, ক্ষুধামুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি, শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প উদ্ভাবন ও অবকাঠামো, অসমতা কমানো, টেকসই নগর ও জনপদ, পরিমিত ভোগ ও উৎপাদন, জলবায়ু কার্যক্রম, জলজ জীবন, স্থলজ জীবন, শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারত্ব।

দারিদ্র্য বিলোপ ও গুণগত শিক্ষায় এগিয়ে বাংলাদেশ : বাংলাদেশও ধারাবাহিকভাবে এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। ২০১৭ সালে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামে এসডিজিসম্পর্কিত ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ উপস্থাপন করে। এরপরে ২০১৮ সালে জিইডি থেকে প্রথম এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। ২০২০ ও সর্বশেষ ২০২২ সালের বাংলাদেশের এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ যে দুটি অভীষ্টে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে, সেগুলো হলো- দারিদ্র্য বিলোপ ও গুণগত শিক্ষা। আর বাংলাদেশের সামনে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের ফলে বাণিজ্য সুবিধার অভিঘাত মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মো. আখতার হোসেন বলেন, এসডিএসএন-২০২৩ এর স্বাধীন মূল্যায়ন রিপোর্টে কোভিডের অভিঘাতের মধ্যেও বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে ভালো করছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঠিক দিকনির্দেশনা ও সবার প্রচেষ্টায় এমডিজির মতো এসডিজিতেও আমরা সাফল্য লাভ করতে চাই।

উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর : ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই ধারাবাহিকতায় পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কক্সবাজার রেলস্টেশন, বঙ্গবন্ধু টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, আমার বাড়ি আমার গ্রাম প্রকল্প, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, আশ্রায়ণ প্রকল্প, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়। টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় এসেও চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেশবাসীর উপকারে আসে এমন উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোনো প্রকল্প নেয়ার সময় মাথায় রাখবেন তাতে কত টাকা ব্যয় হবে, মানুষ কতটুকু লাভবান হবে বা দেশ কতটুকু লাভবান হবে। ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের সভায়ও একই নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঢেলে সাজাতে ৯ বছর পর অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা কমিশনের ওই বৈঠকে বিদেশি অর্থের প্রকল্পগুলোর দিকে বেশি নজর দেয়ার তাগিদ দেন তিনি। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা রক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বসহকারে কাজ করারও নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনোভাবেই সময়ক্ষেপণ না করাসহ বেশ কিছু অনুশাসন দেন তিনি।

উন্নয়শীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে করণীয় বিষয়গুলো মাথায় রেখে প্রকল্প নিতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনোভাবেই সময়ক্ষেপণ করা যাবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এসডিজি অর্জনের পথ সুগম হবে। অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বির আহমেদ ভোরের কাগজকে বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রæতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ‘স্মার্ট নাগরিক’, ‘স্মার্ট সোসাইটি’, ‘স্মার্ট ইকোনমি’ ও ‘স্মার্ট সরকার’ গড়ার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ারই লক্ষ্য। আর এক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই দারিদ্র্য বিলোপ, ক্ষুধামুক্তি, সুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষাসহ সুষম উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইতোমধ্যেই আমার গ্রাম আমার শহর, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল বাস্তবায়ন হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় এবার শিল্পায়নের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইশতেহার বাস্তবায়ন করা হলে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার