ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গণঅবস্থানকারী ছাত্র-জনতা।
স্মারকলিপিতে প্রধান উপদেষ্টাকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রুহুল আমীনের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ ও বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল এ স্মারকলিপি প্রধান করে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন- জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের রাজনৈতিক প্রধান মো. আনিছুর রহমান ও সাংগঠনিক প্রধান মো. শফিউর রহমান, সদস্য সচিব হাসান মোহাম্মদ আরিফ ও সহকারী সদস্য সচিব গালিব ইহসান, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহেদ, সদস্য সচিব ফজলুর রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সানোয়ারা খাতুন।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে স্মারকলিপি, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ৫ দফা, জুনে গণপরিষদ নির্বাচনসহ ১১ দফা দাবি ও জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান রচিত জুলাই বিপ্লবের ইশতেহার গ্রহণ করেন।
পরে বিকাল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এসব কাগজপত্র দলিলের ফাইল উপস্থাপন করা হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয়েছে। এ সময় জানানো হয়েছে, পেশ করা স্মারকলিপির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পরবর্তীতে আলোচনা করবেন।
স্মারকলিপিতে উল্লিখিত ৫ দফা হলো-
১. গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, তাদের মিত্র ১৪ দল ও মহাজোট এবং এসব দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
২. সব ফ্যাসিবাদী দল ও সংগঠনের কার্যালয় ও সব সম্পদ রাষ্ট্রীয়ভাবে অধিগ্রহণ করে তা ফ্যাসিবাদী আমলে নির্যাতিত অসহায় মজলুমদের পুনর্বাসনে ব্যবহার করতে হবে।
৩. ২০০৯-২০২৫ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারগুলোর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সব মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সব এমপি, সব জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যকে ডেজিগনেটেড ফ্যাসিস্ট ঘোষণা করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
৪. ফ্যাসিবাদ ধারণ করে গড়ে ওঠা নব্য ফ্যাসিবাদী বা একই চরিত্রের যে কোনো দল ও সংগঠনকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।
৫. ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দলকে নিষিদ্ধ করার বিধান সংবিধানে সংযুক্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজু ভাস্কর্যে জুলাই গণহত্যা, পিলখানা ও শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও মিত্রদের নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্র-জনতার লাগাতার গণঅবস্থান কর্মসূচি চলছে।
এ কর্মসূচির ব্যবস্থাপনায় রয়েছে জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ ও ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ।
গণঅবস্থান কর্মসূচি থেকে এ পর্যন্ত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ, উপদেষ্টা এবং নবম থেকে দ্বাদশ সংসদের সদস্যদের ফ্যাসিস্ট ঘোষণা করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বস্তরের নাগরিকদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কর্মসূচির ১৩ম দিন মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় রাজু ভাস্কর্য থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা বের করেন গণঅবস্থানকারীরা। এরপর আজ দুপুরে তাদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।