বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তার ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন আবরার ফাহাদ। মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন। আবরারের পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তার মা রোকেয়া খাতুন।
এই স্বীকৃতির পর আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, 'আবরার ফাহাদকে স্বাধীনতা পদকের জন্য নির্বাচিত করার কাজে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভারত বা অন্যান্য চাপ উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না।'
তিনি আরও লেখেন, 'ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসতে দিল্লির সঙ্গে আপস করতে না হলে, তবেই আবরারের আত্মত্যাগের প্রকৃত স্বীকৃতি দেওয়া হবে। না হলে এই পদকও অর্থহীন। আমি চাই না কোনো মাকে তার সন্তানের পক্ষে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করতে হোক।'
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর, ফেসবুকে বাংলাদেশ-ভারতের অসম চুক্তি ও পানি আগ্রাসন নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়। শেরে বাংলা হলের একটি কক্ষে নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। রাত ৩টার দিকে হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। কয়েক বছর পর, আবরারের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হলো। তবে তার পরিবারের মতে, প্রকৃত স্বীকৃতি তখনই আসবে, যখন দেশের নীতি নির্ধারণে কোনো বিদেশি প্রভাব থাকবে না।