পোস্টাল ব্যালটসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা সমবেত হন।
সমাবেশে ছাত্রদলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এবং নির্বাচন কমিশন তাদের বক্তব্য আমলে না নিলে ইসি ভবন সারারাত অবরুদ্ধ করে রাখা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বড় বাধা।
রকিবুল ইসলাম আরও জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ছাত্রদল মাঠপর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিই নির্বাচনে বিজয়ী হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে অবাধ যাতায়াত ছিল, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের সড়কে ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় সংগঠনটি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরে।
ছাত্রদলের অভিযোগসমূহ
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
২. একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে ইসি দায়িত্বশীল ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত না নিয়ে হঠকারী ও দূরদর্শিতাহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
৩. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সরাসরি প্রভাব ও হস্তক্ষেপে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক বলে দাবি করেছে ছাত্রদল।