বিক্ষোভে জড়িতদের সম্পদ জব্দ করছে ইরান


স্টাফ রিপোর্টার : , আপডেট করা হয়েছে : 20-01-2026

বিক্ষোভে জড়িতদের সম্পদ জব্দ করছে ইরান

দেশজুড়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে গ্রেপ্তারকৃত ‘দাঙ্গাবাজদের’ বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এছাড়া বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত ও বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া দেশটির নাগরিকদের সম্পদ জব্দের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই বলেছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে বিচার বিভাগের মূল কাজ শুরু হয়েছে। যদি কোনও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এমন কাউকে ছাড় দেওয়া হয়, যে ছাড় পাওয়ার যোগ্য নয়, তাহলে তা হবে ন্যায়ের পরিপন্থী।

রোববার অল্প সময়ের জন্য ইরানে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হলেও দেশটির বেশিরভাগ এলাকায় এখনও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর মাঝেই বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা।


একই দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন গোলাম-হোসেইন। বৈঠকে দেশটির এই তিন নেতা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, খুনী ও সন্ত্রাসী উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় যারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা কর্তৃপক্ষের দেখানো ইসলামি সহানুভূতি থেকে সম্ভাব্যভাবে উপকৃত হতে পারেন।


ইরানি কর্তৃপক্ষ বারবার অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে।

শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এক বিরল স্বীকারোক্তিতে বলেন, বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে দেশটি দাবি করছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী নয়, বরং বিদেশি শক্তির সঙ্গে যুক্ত এজেন্টরাই সরাসরি এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।

গত ২৮ ডিসেম্বর দেশটির রাজধানী তেহরানের দোকানিদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। এরপর দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলে সেই বিক্ষোভ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ প্রায় প্রতিদিনই নতুন করে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে আসছে।

ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ইরানে প্রবেশ করা একটি ‌‌সন্ত্রাসী দলের অজ্ঞাতসংখ্যক সদস্যকে তেহরানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, কেরমান, ইসফাহান, মাজানদারান, শিরাজ ও বান্দার আনজালিতে আরও শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা ‌‌‘‘দাঙ্গানেতা’’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান; যারা সরকারি ভবন ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় সহিংস হামলায় জড়িত ছিলেন।

দেশটির কট্টরপন্থী পুলিশপ্রধান আহমাদরেজা রাদান সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, যেসব বিক্ষোভকারী প্ররোচনায় পড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, তারা আগামী তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে লঘুদণ্ড পাবেন।

তিনি বলেন, আমরা জনগণের কাছে অঙ্গীকার করছি, দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের শেষ ব্যক্তিকে পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের অনেকেই ইতোমধ্যে সহিংসতা, হত্যা ও লুটপাটে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, বিক্ষোভের সময় হওয়া আর্থিক ক্ষতির একটি অংশ তারা পুষিয়ে নিতে চায়; যাদের প্রকাশ্যে বিক্ষোভ সমর্থন বা এতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে।

প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তরের প্রধান কট্টরপন্থী আলেম মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেন, আইন অনুযায়ী সাম্প্রতিক দাঙ্গার ক্ষতিপূরণ ‘রাজতন্ত্রপন্থী উসকানির’ পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে আদায় এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ফারস নিউজ এজেন্সি বলেছে, দেশের শীর্ষ এক ব্যবসায়ীর সব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশজুড়ে পরিচিত কয়েকটি ক্যাফে এবং কয়েকটি শীর্ষ খাদ্যপণ্য ব্র্যান্ড রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব সম্পদের মোট মূল্য তেহরানে হওয়া ক্ষতির পরিমাণের কাছাকাছি।

জনপ্রিয় সাবেক ফুটবলার ভোরিয়া গাফুরির ক্যাফেও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি এর আগে ২০২২ সালে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভ সমর্থনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।


  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার