রাশিয়াকে দুর্বল করতে প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা হত্যার লক্ষ্যমাত্রা জেলেনস্কির


, আপডেট করা হয়েছে : 31-01-2026

রাশিয়াকে দুর্বল করতে প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা হত্যার লক্ষ্যমাত্রা জেলেনস্কির

ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং আলোচনার টেবিলে রাশিয়াকে সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে বাধ্য করতে এক নজিরবিহীন ও আক্রমণাত্মক রণকৌশল ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। 


সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলোর মূল লক্ষ্য হবে প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার রুশ সেনাকে রণক্ষেত্রে নির্মূল করা। 


জেলেনস্কির এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার মাসিক নতুন সেনা নিয়োগের সক্ষমতাকে অতিক্রম করা, যাতে ক্রেমলিন জনবল সংকটে পড়ে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের মতে, যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রে বিজয় নিশ্চিত করতে শত্রুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতির এই ‘সেরা মাত্রা’ অর্জন করা অপরিহার্য।


জেলেনস্কি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত বছরের শেষ দিকে রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি জানান যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। 


যদিও ইউক্রেনীয় বাহিনীর দাবি অনুযায়ী ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে, তবে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন পর্যন্ত এই সংখ্যার সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি। জেলেনস্কি মনে করেন, ড্রোন প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। 


বর্তমানে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রায় ৮০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত করা হচ্ছে এবং এই সক্ষমতা আরও বাড়াতে ড্রোন বিশেষজ্ঞ মিখাইলো ফেদোরভকে নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


সেনাবাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে এবং নিখুঁতভাবে শত্রুপক্ষকে আঘাত করতে জেলেনস্কি সরকার বিশেষ ‘পয়েন্ট সিস্টেম’ এবং বড় অংকের আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করেছে। ড্রোনের উদ্ভাবন ও উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়াই এখন কিয়েভের প্রধান সামরিক দর্শন। তবে মাঠপর্যায়ে ইউক্রেনের এই রণকৌশলগত প্রস্তুতির বিপরীতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বেসামরিক এলাকাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। 


বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উপর্যুপরি হামলার কারণে কিয়েভসহ বিভিন্ন বড় শহরের লাখ লাখ মানুষ তীব্র শীতের মধ্যে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। রণক্ষেত্রের এই ভয়াবহতা ও মানবিক সংকট বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবুধাবিতে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও চাপের মুখেও দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি তার ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, কেবল ন্যাটোর ওপর নির্ভর করে বসে থাকার সময় আর নেই। 


রাশিয়ার আগ্রাসন চিরতরে স্তব্ধ করতে ইউক্রেনকে নিজস্ব শক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই নতুন রণকৌশল বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার