ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করছে ইসরায়েল। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাপক বোমা হামলার মধ্যেও ইরানে সরকারবিরোধী কোনো বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি।
বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দেশটির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারও নিহত হয়েছেন। তবে এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে এবং অনেক বাড়িঘর ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ইরানি জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
ইসরায়েলের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে। একই সঙ্গে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে কঠোর শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছে। ফলে সম্ভাব্য প্রতিবাদকারীরা যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় নামতে ভয় পাচ্ছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে। তবে ইসরায়েলের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনো সংঘাত বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়নি।
যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পথ তৈরি করবে। তিনি বিশেষভাবে ইরানের কুর্দি, বালুচ ও আরব সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানিদের স্বৈরশাসনের বোঝা ঝেড়ে ফেলার সুযোগ তৈরি করা ইসরায়েলের লক্ষ্য হলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায় যে তাৎক্ষণিক কোনো অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা ইসরায়েল নিজেও দেখছে না।
এদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো যৌথভাবে যুদ্ধের নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা কোন পরিস্থিতিতে এই সামরিক অভিযান শেষ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়নি।