প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা চলবে, তবে সেই গবেষণা বা মন্তব্য এমন হওয়া উচিত নয় যাতে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবমূল্যায়ন ঘটে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ। অতীতকে ভুলে থাকা যাবে না, আবার অতীত নিয়ে পড়ে থাকাও যেন ভবিষ্যতের পথে বাধা না হয়।’
তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সব জাতীয় নেতাকে স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা, আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সাহসী জনগণের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করতেন এবং তার দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রমাণ ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধে পাওয়া যায়, যা মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা কোনো এক দলের নয়, এটি ছিল জনযুদ্ধ। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং এসব উদ্যোগ দেশকে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ করার পথে সহায়ক হবে।
তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকব—এটাই হোক এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।