কুমিল্লায় হাম আতঙ্কে হাসপাতালে ভিড়


, আপডেট করা হয়েছে : 30-03-2026

কুমিল্লায় হাম আতঙ্কে হাসপাতালে ভিড়

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় হাম রোগের আতঙ্কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ও অভিভাবকদের ভিড় বেড়েছে। যদিও এ উপজেলায় এখনো হামের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি, তবে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি ও প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিবিভাগ ও জরুরি বিভাগে শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। অনেকে শিশুদের জ্বর, সর্দি বা ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিলে তা হাম কিনা, এ আশঙ্কায় চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তবে আগে থেকেই এ উপজেলায় স্ক্যাবিসের সংক্রমণ রয়েছে, যে সংক্রমণেও রোগীর হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গোটা দেখা দেয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়ায় এসব রোগী ও রোগীর অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানা গেছে, এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে হাম সম্পর্কে এই উপজেলার মানুষকে সচেতন করে তুলতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।


হাসপাতালে আসা কয়েকজন অভিভাবক জানান, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাই কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলে এটি হাম হিসেবে গণ্য হবে এ বিষয়ে পরামর্শ নিতেও এবং সচেতন হতেও অনেকে আসছেন।


হাসপাতালে আসা অভিভাবক আমেনা বেগম বলেন, টেলিভিশন ও ফেসবুকে বিভিন্ন জেলায় হাম রোগে শিশু মৃত্যুর খবর শুনে খুব ভয় লাগছে। আমার বাচ্চার জ্বর হওয়ায় দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি, যেন কোনো ঝুঁকি না থাকে।


আরেক অভিভাবক জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় এখনো হাম রোগী না থাকলেও চারদিকে যেভাবে সংক্রমণের খবর শোনা যাচ্ছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত। তাই বাচ্চার শরীরে সামান্য ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ায় নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের কাছে এসেছি।


ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। তবে এ উপজেলায় এখনো পর্যন্ত হামের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে এক শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আমরা রোগী থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছি। রিপোর্ট পেলে ওই শিশু হাম আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।


তিনি বলেন, তবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কিছু জেলায় এ রোগের সংক্রমণ বাড়ার খবর পাওয়ায় মানুষ সচেতন হয়ে হাসপাতালে আসছেন, এটি ইতিবাচক দিক। এছাড়া আমরাও মানুষকে এ ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছি।


ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, রোগীর তীব্র জ্বর, তীব্র সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া এবং শরীর ব্যথা। এরপর রোগীর মুখের ভেতর সাদা দানা ( কপলিক স্পট ) দেখা দেয় এবং ২-৩ দিন পর কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে-বাদামি ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়ে তবে অবশ্যই অবহেলা না করে রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অথবা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে হবে।


তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের হাসপাতালের নতুন ভবনে ৬ শয্যাবিশিষ্ট আইসোলেশন বিভাগ চালু করা হয়েছে।



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার