বাংলাদেশে হামের মহামারী, ঝুঁকিতে ভারতও


, আপডেট করা হয়েছে : 17-05-2026

বাংলাদেশে হামের মহামারী, ঝুঁকিতে ভারতও

বাংলাদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সংকটগুলোর একটি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


সরকারি তথ্য ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে ৩২ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময় ২৫০ জনের বেশি সন্দেহভাজন মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যাদের বেশির ভাগই শিশু। তবে স্থানীয় কয়েকজন পর্যবেক্ষক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের ধারণা, টিকাদানে ঘাটতি ও জরুরি পদক্ষেপে বিলম্বের কারণে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।


চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন রোহিঙ্গা শিবিরে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে এবং ২১ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে।


২৩ এপ্রিল প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, এই সংক্রমণ ভারত ও মিয়ানমারে সীমান্ত অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। সংস্থাটির তথ্যে বলা হয়, ১৫ মার্চের পর সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে।


আক্রান্তদের বেশির ভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অপুষ্টি, ভিটামিন 'এ' বিতরণ কর্মসূচিতে ব্যাঘাত এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।


দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি আন্তর্জাতিকভাবে সফল জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত ছিল। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলা টিকাসহ বিভিন্ন টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হতো। এতে আর্থিক সহায়তা দিত গাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স এবং বাংলাদেশ সরকারও অংশ নিত। শিশুদের নিয়মিতভাবে নয় ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হতো। পাশাপাশি প্রতি চার বছর পরপর দেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি চালিয়ে টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের ওপরে রাখা হতো।


করোনা মহামারির সময়ও এই ব্যবস্থা কার্যকর ছিল এবং গণটিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক সহিংসতার পর জনস্বাস্থ্য প্রশাসনে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়।



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার