পে-স্কেলের অর্থ জোগানে সংকট, বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা


, আপডেট করা হয়েছে : 17-05-2026

পে-স্কেলের অর্থ জোগানে সংকট, বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী জুনে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেই নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে একযোগে পুরো সুবিধা না দিয়ে কয়েক ধাপে এটি কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে সরকার।


জানা গেছে, আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ওই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। বাজেট বক্তব্যের সময় নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা এবং এর বাস্তবায়ন কাঠামো তুলে ধরা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিপুল অর্থের জোগান। এ কারণেই একবারে পুরো সুবিধা কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ নিয়ে কাজ চলছে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন আংশিক বাড়ানো হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর শতভাগ সুবিধা নিশ্চিত করা।


নতুন পে-কমিশনের আওতায় প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনার বা অবসরভোগী আর্থিক সুবিধার আওতায় আসবেন বলে জানা গেছে।



সরকারি চাকরিজীবীদের সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। বাসাভাড়া, চিকিৎসা খরচ ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চাপে রয়েছেন। তাই দ্রুত জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।


নিচে প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক সম্ভাব্য বেতনের তালিকা দেওয়া হলো। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।


গ্রেড প্রস্তাবিত বেতন স্কেল (টাকা)

গ্রেড-১ ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)

গ্রেড-২ ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০

গ্রেড-৩ ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০

গ্রেড-৪ ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০

গ্রেড-৫ ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০

গ্রেড-৬ ৭১,০০০–১,৩৪,০০০

গ্রেড-৭ ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০

গ্রেড-৮ ৪৭,২০০–১,১৩,৭০০

গ্রেড-৯ ৪৫,১০০–১,০৮,৮০০

গ্রেড-১০ ৩২,০০০–৭৭,৩০০

গ্রেড-১১ ২৫,০০০–৬০,৫০০

গ্রেড-১২ ২৪,৩০০–৫৮,৭০০

গ্রেড-১৩ ২৪,০০০–৫৮,০০০

গ্রেড-১৪ ২৩,৫০০–৫৬,৮০০

গ্রেড-১৫ ২২,৮০০–৫৫,২০০

গ্রেড-১৬ ২১,৯০০–৫২,৯০০

গ্রেড-১৭ ২১,৪০০–৫১,৯০০

গ্রেড-১৮ ২১,০০০–৫০,৯০০

গ্রেড-১৯ ২০,৫০০–৪৯,৬০০

গ্রেড-২০ ২০,০০০–৪৮,৪০০



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার