রাজশাহীর দুর্গাপুরে চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাত হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে চার ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হলে শিশুটির মরদেহ দাফনের জন্য নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল রোববার বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা সোয়া সাতটা পর্যন্ত দুর্গাপুর উপজেলার হাট কানপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে একটি খেজুরগাছের নিচে হুমায়রার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর মরদেহটি পাওয়া যায়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল। আসরের নামাজের পর জানাজা হওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয় লোকজন বলেন, বেলা তিনটার দিকে হাট কানপাড়া বাজার এলাকায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। তাঁরা মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লোকজন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল হুমায়রা। একপর্যায়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন রাতভর আশপাশের এলাকা, পুকুর ও ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পাননি।
শনিবার সকালে হুমায়রার বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্ত নিজের ফেসবুক আইডিতে মেয়ের সন্ধানদাতাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে বাড়ির পাশেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছে। হুমায়রার বাবা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। তবে মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না; বরং আন্দোলনকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে একপর্যায়ে পুলিশ অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে যেতে বললে উত্তেজনা বাড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েক দফা ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মরদেহ দাফনের জন্য নেওয়া হয়।
রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সুপার অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সবার সহযোগিতা চান। জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।