যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (GMT) ভোর ৫টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৭৯ সেন্ট বা ০.৮২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭.০৭ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ৮০ সেন্ট বা ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.২৮ ডলারে উঠেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে জুলাইয়ের পর তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধি দেখা যায়। ওই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ২৮ ডলারে এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দামে অতিরিক্ত ঝুঁকি-প্রিমিয়াম যুক্ত হচ্ছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালিতেও ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট একটি সময়ে মাত্র চারটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ ১০ দিনের গড় হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ১৩টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে ঝুঁকি বাড়ায় বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ডব্লিউটিআইয়ের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ৬৬ ডলার বেশি। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও তীব্র হলে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।