ইনফান্তিনোর দুই ঘণ্টা স্ম^র^ণী^য় করতে পারলো না বাফুফে


, আপডেট করা হয়েছে : 19-10-2026

ইনফান্তিনোর দুই ঘণ্টা স্ম^র^ণী^য় করতে পারলো না বাফুফে

আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বাংলাদেশের আকাশসীমা পেরিয়ে ভুটানে যাওয়ার পথে বাংলাদেশের মাটিতে নামলেন। মরক্কো থেকে সরাসরি ভুটানে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে যাত্রা বিরতিতে দুই ঘণ্টার জন্য ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবস্থান করলেন। ফিফা সভাপতির এই ভ্রমণের কথা আগেই জানা ছিল বাফুফের। কিন্তু ফিফা সভাপতির সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতিটাকে স্মরণীয় করে তুলতে পারলো না বাফুফে।


ফিফা সভাপতি ২১২টি দেশের ফুটবল সভাপতি। তার অঙ্গুলি হেলনে ফুটবল দুনিয়া ওলট-পালট হয়ে যায়। ক্ষমতাধর এই ব্যক্তিকে সহজে চাইলেই একটা দেশে আনা যায় না। ফিফা সভাপতির সময়ের মূল্য অনেক। তাছাড়া যে দেশটি ফিফার র‍্যাংকিংয়ে ১৮২ নম্বরে, সেই দেশ নিয়ে তো ফিফা সভাপতির চিন্তা করারও সময় থাকার কথা না। তিনি চিন্তা করেন আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি প্রভৃতি দেশের ফুটবল নিয়ে। র‍্যাংকিংয়ের কথা বিবেচনা করলে ফিফা সভাপতির কাছে বাংলাদেশের মূল্যই থাকার কথা না। 


ফিফা সভাপতি তার অফিসিয়াল ভ্রমণের সময়ে বাংলাদেশের মাটিতে নামলেন, বাফুফের কাছে এটাই হতে পারতো মেঘ না চাইতে জলের মতো। ক্ষুদ্র সময়ের জন্য মুগ্ধ করার মতো স্মরণীয় করে রাখতে অভ্যর্থনা দিতে পারত বাফুফে। যা দেখে ফিফার সভাপতি দীর্ঘদিন মনে রাখতেন। স্মরণীয় অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরতে পারতেন। বাফুফে ইনফান্তিনোকে ফুটবল উপহার দিয়েছে। ইনফান্তিনো সারা দুনিয়াকে ফুটবল উপহার দেন।


 


ইনফান্তিনো আসছেন, এত বড় একটি খবর লুকিয়ে রাখলো বাফুফে। এই খবরটি ঘটা করে সবাইকে জানিয়ে দিতে পারত বাফুফে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো যখন ফিফার সভাপতির সঙ্গে বাফুফের কর্মকর্তারা ফটোসেশন করলেন। ফিফা সভাপতির সঠিক মূল্যায়নটাই কি বুঝলেন না কর্মকর্তারা। 


ফিফা সভাপতি ভুটান সফরে যাচ্ছেন। যে দেশের ফুটবল লিগই ঠিক মতো হয় না। যাদের ফুটবলের মান বাংলাদেশের ফুটবলের ধারেকাছে নেই। ভুটানের ফুটবলকে সাফ অঞ্চলের কেউ পাত্তাই দেয় না। সেই দেশ সফরে যাচ্ছেন ফিফার সভাপতি। তা-ও কিনা বাংলাদেশের আকাশের উপর দিয়ে। যাওয়ার আগে বলেও যাচ্ছেন ইনফান্তিনো, 'আমি ভুটানে যাচ্ছি।' আর বাংলাদেশকে জানিয়েছেন শুভ কামনা। আর বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি ফিফাকে জানিয়েছেন বাফুফের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে। আগামীতে যেকোনো অনুষ্ঠানে তাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর কথাও বলা হয়।


 


সাংগঠনিক ক্ষমতা দিয়ে ফিফার সঙ্গে সম্পর্কটা মজবুত থাকলে ভুটান সফরের মাঝেই ফিফা সভাপতি এক দিনের জন্য বাংলাদেশ সফর করাতে পারতো বাফুফে। এ ধরনের ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেশের ফুটবলের নতুন মেরুকরণ করারও সুযোগ নেওয়া যেত। এটা সম্ভব হয় দূরদর্শীতায়। ফিফা সভাপতিকে অভ্যর্থনা জানাতে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সাব্বির আহমেদ, শাহরিয়ার নাসের জাহেদী, ফাহাদ করিম, বাফুফে সভাপতির ভাই তাজওয়ার আউয়াল থাকলেন। 


কিন্তু বাফুফের সদস্যরা থাকলেন না। তাদেরকে ফিফা সভাপতির কাছ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ সদস্যদের মধ্যে। তাদের কথা হচ্ছে, 'আমরাও তো বাফুফের কর্মকর্তা। হতে পারি কমিটির সদস্য। তাই বলে আমাদেরকেও নেওয়া হবে না।' তারা বলেন মন্ত্রীর ভাই, মন্ত্রীর ছেলে, বাফুফের সভাপতির ভাই থাকলেন, ফিফা সভাপতির সঙ্গে ফটোসেশন করলেন আর আমরা সেখানে গুরুত্ব পেলাম না। আগে দেখেছি এ ধরনের অনুষ্ঠানে সালাহউদ্দিন ভাই সভাপতি থাকাকালীন সেক্রেটারি সোহাগকে নির্দেশ দিতেন সব সদস্যকে অনুষ্ঠানে থাকতে বলো।' আরেক সদস্য জানালেন, আমাদেরকে বলা হয়েছে বিমানবন্দরের ভেতরে যেতে হলে পাশ লাগে। সবাইকে পাশ দেওয়া হয় না।



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার