হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে বাগমারায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা , আপডেট করা হয়েছে : 26-10-2026

হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে বাগমারায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তিন ফসলি কৃষিজমি রক্ষায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাজশাহীর বাগমারায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগের পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নুরপুর মৌজায় কামারের ঘাট সেতু-সংলগ্ন মমিন কমিশনারের বাড়ির পাশে প্রায় ২০–২৫ বিঘা আবাদি কৃষিজমিতে এক্সকাভেটর দিয়ে দিন-রাত মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নুরপুর এলাকার মজনু, হান্নান ও ওহাবের নেতৃত্বে এ খননকাজ চলছে এবং উত্তোলিত মাটি বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমির সেচব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

বাগমারা উপজেলায় কৃষিজমিতে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে জনস্বার্থে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৪৩৫৩/২০১৭-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি, ওই আদেশে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে এবং আদেশটি এখনো বলবৎ রয়েছে। তা সত্ত্বেও পুকুর খনন অব্যাহত থাকায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আদালতের আদেশ বা প্রচলিত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, তিন ফসলি জমি ধ্বংস হলে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা, সেচব্যবস্থা ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, পুকুর খননের মাটি পরিবহনের কারণে সরকারি রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনসাধারণকেও এর আর্থিক ও ভোগান্তির দায় বহন করতে হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও বাগমারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইল  লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে অবিলম্বে খননকাজ বন্ধ, ঘটনাস্থলে তদন্ত, প্রয়োজনীয় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এখন প্রশ্ন—মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ বলবৎ থাকা এবং কৃষিজমি সুরক্ষায় আইনগত বিধান থাকা সত্ত্বেও যদি ফসলি জমিতে পুকুর খনন অব্যাহত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে? আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, তিন ফসলি জমি রক্ষা এবং সরকারি রাস্তাঘাটের ক্ষতি প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী—এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন এলাকাবাসী।


  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার