রাজশাহী নওগাঁয় ধান-চালের দামে পতন, বিপাকে কৃষক


, আপডেট করা হয়েছে : 15-09-2026

রাজশাহী নওগাঁয় ধান-চালের দামে পতন, বিপাকে কৃষক

নওগাঁয় গত কয়েক সপ্তাহে ধান ও চালের দাম কমেছে। চালের দাম কমায় ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ধানের দরপতনে লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা।



ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় চালের সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি আমদানিকৃত চালের মজুত থাকায় নওগাঁর মোকামে পাইকারি বেচাকেনা কমেছে। এতে মিলগুলোতে চাল জমে থাকায় নতুন করে ধান কেনার আগ্রহও কমেছে মিলারদের।


স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আউশ ধানের মধ্যে পারিজা ও ব্রি ধান-৪৮ প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই ধান বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায়।


কাটারি ধান এখন প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। গত বছর এ সময় দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। জিরা ধানের দাম নেমে এসেছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়; গত বছর যা ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা।


ধানের পাশাপাশি পাইকারি বাজারে চালের দামও কমেছে। বর্তমানে জিরা চাল ৫৬ থেকে ৬১ টাকা, কাটারি চাল ৭৩ থেকে ৭৪ টাকা এবং স্বর্ণা চাল ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব চালের দাম কেজিতে প্রায় ২ টাকা পর্যন্ত কমেছে।


নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, গত বছর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চাল আমদানি হওয়ায় দেশে এখন পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে বাজারে চালের চাহিদা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে ধানের বাজারেও।


তিনি বলেন, “ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে আউশ মৌসুমেও সরকারের ধান বা চাল কেনা প্রয়োজন। এতে কৃষকের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।”


ব্যবসায়ীরা জানান, নওগাঁয় চালের চাহিদা কম থাকায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেজিতে এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।


এদিকে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চালকল মালিকদের সঙ্গে সভা করেছে জেলা প্রশাসন। সভায় চালের মান বজায় রাখা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়ে মিলারদের সতর্ক করা হয়।


জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, চালে কৃত্রিমভাবে সুগন্ধি মেশানো কিংবা চাল সাদা করতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘হাইড্রোজ’ ব্যবহার করা যাবে না। কৃষকেরা যাতে ধানের ন্যায্য দাম পান, সেজন্য মিলারদের ধান কেনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।




জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খোন্দকার বলেন, দেশে বর্তমানে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই আগামী তিন মাসে চালের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কেউ অবৈধভাবে চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ধানের কম দাম নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগের কথাও জানান তিনি। আউশ ধানের চাহিদা বাড়াতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ধান থেকে বায়োফুয়েল উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।



  • সম্পাদক ও প্রকাশক: ইঞ্জিনিয়ার মো: রায়হানুল ইসলাম

  • উপদেষ্টাঃ মোঃ ইব্রাহীম হায়দার