০৫ অক্টোবর ২০২২, বুধবার, ১০:১৮:২১ অপরাহ্ন
সরকারের পদক্ষেপ বড় সুফল দেবে না
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৭-২০২২
সরকারের পদক্ষেপ বড় সুফল দেবে না

চলমান জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নেওয়া সরকারের পদক্ষেপগুলো বড় কোনো সুফল দেবে না-এমন মন্তব্য করেছেন জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোনিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। সোমবার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের ঘোষিত উদ্যোগের বিষয়ে যুগান্তরের কাছে এ কথা বলেন।

অধ্যাপক শাসমুল আলম বলেন, ‘সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর আদৌ কোনো সুফল আসবে কিনা সে ব্যাপারে আমার সংশয় আছে। যারা এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাদেরও এ বিষয়ে সন্দেহ না থাকার কোনো কারণ নেই। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটের কারণে মানুষ কষ্টকর পরিস্থিতিতে পড়বে।

সরকার পদক্ষেপ নিলেও এটা হবে, না নিলেও এমনই হবে। এ কারণে পদ্ধতিগত লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।’

যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকার এগুচ্ছে তা বিশ্লেষণে আমরা শুধু হতাশ নই, মর্মাহত হয়েছি উল্লেখ করে শামসুল আলম বলেন, ‘সরকারি পর্যায়ে গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব দুর্বল নির্দেশনা আছে। এই ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। মন্ত্রী, সচিবসহ বড় বড় কর্মকর্তাদের গাড়ি জব্দ করে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখলে কী ক্ষতি হয়। করোনার সময় তো গাড়ি বন্ধ ছিল। তাদের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলতে অসুবিধা কী? বা তারা যদি গাড়ি শেয়ার করে ব্যবহার করেন তাতে সমস্যা কোথায়? তাদের এসব সুযোগ-সুবিধা ঠিকই চলবে কিন্তু মানুষকে তারা বলবে যে, তোমরা চলো না। তাদের বাড়িতে দুই ঘণ্টার ফোর্স লোডশেডিংয়ে থাকবে এ ঘোষণা তাদের কাছ থেকে আসেনি কেন। যেমন, প্রত্যেক মন্ত্রীর বাড়ি ও অফিসের এসি বন্ধ থাকবে, এমন ঘোষণা আসেনি কেন?’ এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিজেদের (সরকারের দায়িত্বশীলদের) ফোর্স লোডশেডিংয়ের মধ্যে রেখে নিজেরা যদি জনগণের কষ্টের সঙ্গে শামিল হতে পারেন তাহলে মানুষের জন্য নিয়ম চালু করার সুফল পাওয়া যেতে পারে। অথচ জ্বালানি উপদেষ্টা বলেছেন, আমরা লোডশেডিংয়ের সমতার ভিত্তিতে ভাগ করে নিতে চাই।’

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন সরকারের কোনো নির্দেশনাই ঠিকমতো পালিত হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। নির্দেশনা প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা দৃষ্টিগোচর হয়নি। কিছু বিষয় বলতে হয়, করতে হয়, কাগজপত্র ঠিক রাখতে হয়, তাই এসব উদ্যোগ। কারণ তর্জন-গর্জন করে তো কিছু হয় না, মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব উদ্যোগে শামিল করতে হয়।’

শামসুল আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ত দিয়ে (দেশের) স্বাধীনতা এনেছে। (মানুষ) না খেয়ে-পরে ১০ মাস থেকেছে। কারও কোনো অভিযোগ ছিল না, হাসিমুখে মেনে নিয়েছে। সে তুলনায় এটা (বর্তমান জ্বালানি সংকট) তো কোনো সংকটই নয়।

প্রশ্ন হচ্ছে এই সংকটে সরকারের মধ্যে থাকা ব্যক্তিরা সেটা কীভাবে গ্রহণ করছেন। ব্যক্তি সরকারের মধ্যে কী প্রস্তুতি পদক্ষেপ আছে সেটা দেখতে হবে। তারা এই দায় ব্যক্তিগতভাবে কতটুকু নিচ্ছেন? সেই দৃষ্টান্তগুলো সামনে এলে মানুষ অনুপ্রাণিত হতো।’

সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে শামসুল আলম বলেন, ‘জ্বালানি উপদেষ্টা তার ঘোষণায় কেন বললেন না যে, তার ঘরের এসি বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিদিন পিক আওয়ারে তার বাড়িতে দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা যদি গণমাধ্যমে হাতপাখা নিয়ে (প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টার) বসে থাকার ছবি দেখতে পেতাম তাহলে উৎসাহিত হতে পারতাম। বরঞ্চ এরকম বক্তব্য নিয়ে তিনি যখন চেহারা দেখান, তখন আমরা তার প্রতি ঘৃণাবোধ করি এবং মন মেজাজ বিষাক্ত হয়ে ওঠে।’

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন হিসাবে দায়িত্বপালনকারী শামসুল আলম আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘এই সময়ে শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টা সামনে আসবে কেন। এখন প্রয়োজন বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে যত অযৌক্তিক ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় আছে তা বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া। এ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা স্টেকহোল্ডারদের মধ্য থেকে প্রথমে চাওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মাধ্যমে এটা হতে পারত। তারা শুনানির মাধ্যমে সরকারকে দিতে পারত। তাহলে সরকার এবং জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে যেত। তা না করে মার্শাল ল’ রেগুলেশনের মতো মসনদে বসে একা একা ফরমান জারি করলে সেটা রাতারাতি সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

শেয়ার করুন