০১ অক্টোবর ২০২২, শনিবার, ০৪:০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ডাকাতির পর তিন ঘণ্টা ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’
নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০৮-২০২২
টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ডাকাতির পর তিন ঘণ্টা ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’ ছবি সংগৃহীত।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি নৈশ কোচে যাত্রীবেশে ডাকাতি ও এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় এই মামলা হয় বলে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, মেয়েটিকে সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

মধুপুর থানার ওসি মাজহারুল আমিন জানান, যাত্রীবেশে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী নাইট কোচে উঠে ডাকাত দল গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রীদের মারধর ও তাদের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র লুট করে। পরে বাসে থাকা এক নারীকে ধর্ষণ করে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে মধুপুরের রক্তিপাড়া জামে মসজিদের উল্টোপাশে মজিবরের বাড়ির সামনের বালুর ডিবিতে বাস উঠিয়ে দিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।

কুষ্টিয়া থেকে ঈগল পরিবহনের এই বাসটি ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে মঙ্গলবার ছেড়ে আসে। পথে এ ঘটনা ঘটে।

নাটোরের বড়াইগ্রামের বাসিন্দা ফল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান, তিনি বাসের নিয়মিত যাত্রী। বাসের সুপার ভাইজার রাব্বি ও হেলপার দুলাল তার পূর্বপরিচিত। কিন্তু বাসের এবারের চালক নতুন। তিনি বড়াইগ্রামের তরমুজ চত্বর থেকে আমড়া, কাঁঠাল ও তালসহ বিভিন্ন ফল ঢাকার গুলশানে নিয়ে যেতে বাসে উঠেন।

তিনি জানান, বাসটি সিরাজগঞ্জের কাছাকাছি দিবারাত্রি হোটেলে নৈশভোজের জন্য যাত্রা বিরতি দেয়। পরে রাত দেড়টার দিকে আবার যাত্রা শুরু করে। পথে কাঁধে ব্যাগ বহনকরা ১০-১২ জন তরুণ যাত্রী ওঠে।

ওই যাত্রী আরো জানান, তখন সবাই প্রায় ঘুমে। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর যাত্রীবেশে থাকা ওই তরুণ দল অস্ত্রের মুখে ঘুমন্ত যাত্রীদের বেঁধে ফেলে। প্রত্যেক যাত্রীর চোখ ও মুখ বেঁধে চালককেও জিম্মি করে বাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।

পাঁচ মিনিটের মধ্যে সব যাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল, টাকা, গহনা নেয়। তারপর এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে বাস বিভিন্ন রাস্তা ঘুরিয়ে তিন ঘণ্টার মতো নিয়ন্ত্রণে রাখে। শেষে পথ পরিবর্তন করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালুর ডিবিতে ঠেকিয়ে ডাকাত দল নেমে যায় বলে জানান ওই যাত্রী। পরে বুধবার সকালে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ যাত্রীদের উদ্ধার করে করে থানায় নিয়ে আসে। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, এ ব্যাপারে বাসের যাত্রী হেকমত আলীকে বাদী করে ডাকাতি ও গণধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। মেয়েটিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রাপ্ত তথ্য জানানো হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন