১৩ অগাস্ট ২০২২, শনিবার, ০৯:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন
তেল নিয়ে তেলেসমাতি, সিলেটের সড়কে আগুন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৬-০৮-২০২২
তেল নিয়ে তেলেসমাতি, সিলেটের সড়কে আগুন

দেশে আবারও বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোল।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘটে হুলস্থুল কাণ্ড। প্রায় প্রত্যেকটি পাম্পে গাড়ি ও মোটরসাইকেলচালকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই সুযোগে অধিক লাভের আশায় অসাধু জ্বালানি ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যারাত থেকে পাম্পে ‘তেল নেই’বলে বিক্রি বন্ধ করে তেলেসমাতি শুরু করেন।

এমন পরিস্থিতিতে নগরীর বেশ কয়েকটি তেল পাম্পে পুলিশ গিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে তেল বিক্রি করতে সংশ্লিষ্টদের বাধ্য করে। অনেকেই তেল না পেয়ে নগরীসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে বিক্ষোভ করে সড়ক অবরোধ করেন। এসময় কয়েকটি সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন বিক্ষুব্ধরা।

রাত ১১টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের কদমতলি এলাকার এমএস মো. সোলেমান বক্স সিএনজি ফিলিং স্টেশনে (সাবেক নাইম সিএনজি পাম্প) দেখা গেছে, তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে ১০০ টাকা ধরে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার এমএ হক পাম্পেও ছিল একই অব্স্থা। তেলের দাম বাড়িয়ে বিক্রির পাঁয়তারায় ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক এবং সোবহানীঘাট-উপশহর সড়ক অবরোধ করেন গ্রাহকরা। এসময় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় গ্রাহকদের।

এছাড়া দক্ষিণ সুরমার একটি সড়ক, সিলেট-সুনামগঞ্জের পাঠানটুলা সড়ক অবরোধ করে রাখেন ক্রেতা সাধারণ। তাদের বেশির ভাগই মোটরসাইকেলচালক।

রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোনো পাম্পই জ্বালানি বিক্রি করেনি। এসব জায়গায় চলে সড়ক অবরোধ ও ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বিক্ষোভ। এতে রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

নগরীর দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলস্থ মেসার্স দিবারাত্রি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে পেট্রোল ক্রয় করতে আসা সিলাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য নোমানুল ইসলাম সাজু বলেন, বাড়িতে ছিলাম। গাড়িতে তেল কম। তাই তেল নিতে এসেছি। পাম্পে এসে দেখি পা ফেলার জায়গা নাই। মূলত দাম বৃদ্ধির কারণে এমন অবস্থা।

দিবারাত্রি ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ ম্যানেজার বলেন, আমরা প্রত্যেক ক্রেতাকে ২০০ টাকার উপর তেল দিচ্ছি না৷ এতো লোক কখনো আমাদের পাম্পে পেট্রোল নিতে আসেননি। মানুষের উপস্থিত বেশি থাকায় আমরা কিছুটা বিপাকে আছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক রাত ১২টায় নতুন দামে তেল বিক্রি করছি। ১২টার আগে আমরা পুরোনো দামে তেল বিক্রি করেছি।

উল্লেখ্য, সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে শুক্রবার রাতে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ প্রেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এ পরিশোধিত এবং আমদানি/ক্রয়কৃত ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য সমন্বয় করে ভোক্তা পর্যায়ে পুণঃনির্ধারণ করা হলো। নতুন দামে ভোক্তাদের শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভেতর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও পেট্রোল ১৩০ টাকা দরে কিনতে হবে।

শেয়ার করুন