৩১ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১:২৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
কয়েক সপ্তাহেই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: মার্কো রুবিও
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-০৩-২০২৬
কয়েক সপ্তাহেই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: মার্কো রুবিও

ইরানের নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্প কাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। সোমবার (৩১ মার্চ) এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওয়াশিংটন তার লক্ষ্য অর্জনে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের আধিপত্য কোনোভাবেই মেনে নেবেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


মার্ক রুবিও বলেন, আমরা ইরানের নৌবাহিনী এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ ধ্বংস করে দিচ্ছি। তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি আমরা গুঁড়িয়ে দেব, যাতে ভবিষ্যতে তারা আর কোনো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন তৈরি করতে না পারে। বর্তমান ইরান তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থানে রয়েছে।


ইরানের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, কল্পনা করুন, দুই বছর পর তাদের হাতে যদি আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র আর কারখানা থাকত, তবে তা কতটা ভয়াবহ হতো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই ঝুঁকি মোকাবিলা করছেন। হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান সেখানে টোল আদায় বা চিরস্থায়ী নিয়ন্ত্রণের যে হুমকি দিচ্ছে, তা সফল হতে দেওয়া হবে না। মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।


এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিপরীতে মুখ খুলেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের এখন পর্যন্ত কোনো ‘সরাসরি’ আলোচনা হয়নি। তবে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। মার্কিন কূটনীতির প্রতি বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির ওপর বৈশ্বিক আস্থা খুবই সীমিত।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফিনান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গত শনিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যকার চারপক্ষীয় বৈঠকে তারা অংশ নেয়নি।


সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দিয়ে রেখেছেন যে, যদি দ্রুত কোনো চুক্তি না হয় বা হরমুজ প্রণালী ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে সেগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। 


বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করায় গোটা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গভীর উদ্বেগের মুখে পড়েছে।


শেয়ার করুন