২৭ নভেম্বর ২০২২, রবিবার, ০৪:২০:১৭ পূর্বাহ্ন
আনসার-দালালদের দৌরাত্ম্যে অসহায় আবেদনকারীরা
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-১০-২০২২
আনসার-দালালদের দৌরাত্ম্যে অসহায় আবেদনকারীরা

রাজশাহী বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) অফিসে আনসার সদস্য ও দালালচক্রের যৌথ দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। এতে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনকারীরা বিপাকে পড়ছেন।

তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই দালালের ফাঁদে পড়েন। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, অফিসে দালালের কোনো দৌরাত্ম্য নেই।

বিআরটিএ রাজশাহী অফিসে প্রতিদিন গড়ে দেড়শ’ মানুষ বিভিন্ন যানবাহনের লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেন। অভিযোগ উঠেছে, আনসার সদস্যরা গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেশি নিচ্ছেন। এরপর ওই চক্র নিজেরাই কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে কর্মকর্তাদের সিল ব্যবহার করেছেন।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, আবেদনপত্রে অযথাই ভুল ধরে ঘোরানো হয় মাসের পর মাস। অথচ দালাল ও আনসার সদস্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে আবেদনপত্র জমা দিলে ভোগান্তি ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যায় গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় পাস করানোর দায়িত্বও নেয় দালালরা।

আনসারদের পাশাপাশি মোকসেদ নামে এক দালালকে বিআরটিএ অফিসে কাগজ নিয়ে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা নিজেরা আবেদনপত্র ঠিকমতো পূরণ করতে পারেন না, আমি শুধু তাদের সহযোগিতা করি। এতে খুশি হয়ে তারা আমাকে কিছু দিলে তা নেই। আমি তো কারো কাছে জোর করে কিছু নেই না।’

তবে একই কাজে জড়িত আনসার সদস্য জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে বিআরটিএ রাজশাহী অফিসের সহকারী পরিচালক আবদুল খালেক বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে মাঝেমধ্যে আনসার সদস্যদের অফিসের কাজে লাগানো হয়। এ ছাড়া এই অফিসে দালালির কোনো বিষয় নেই।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ৩ হাজার ৩০১টি ও অপেশাদার ২৪ হাজার ৬৪০টি আবেদন জমা পড়েছে বিআরটিএ অফিসে। সূত্র- সময় সংবাদ

শেয়ার করুন