১২ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার, ১১:০১:৪৮ অপরাহ্ন
`খালেদা জিয়ার সৃষ্টি বাংলা ভাই’
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-১২-২০২২
`খালেদা জিয়ার সৃষ্টি বাংলা ভাই’

রাজশাহীতে বিএনপির অব্যাহত দেশবিরোধী যড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে আওয়ামী নেতৃবৃন্দ বলেছেন ‘জঙ্গী সংগঠন আল কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত জামায়াতুল মুজাহিদুল বাংলাদেশের (জেএমবি) উত্থান ও শক্তিশালী হয়ে ওঠার পেছনে ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শীর্ষনেতাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা।


তারেক রহমান এবং চারদলীয় জোট সরকারের প্রভাবশালী কয়েক মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন কুখ্যাত জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই। জেএমবির এ উত্থানের পেছনে তারেক ও সরকারের মন্ত্রী এমপিদের পৃষ্ঠপোষকতার পুরো ঘটনা ঘটেছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পূর্ণ সমর্থন নিয়েই।


তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী ও তার ছেলেসহ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করায় অনেক ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকাশ্যে কাজ করেছে জঙ্গী উত্থানের পক্ষে। কুখ্যাত বাংলা ভাই ও শায়ক আবদুর রহমান নিজেদের অফিসে নিরাপদে বৈঠক করতে খালেদা জিয়ার ছবি টাঙিয়ে।


স্বঘোষিত আঞ্চলিক শাসন জারি করে জেএমপি রাজশাহীর বাগমারা ও নওগাঁর আত্রাই-রাণীনগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন। জিয়া পরিবারের সঙ্গে বাংলা ভাইয়ের সম্পর্কের গভীরতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রকাশ্যেই তারেক রহমানকে মোবাইল ফোনে সম্বোধন করতেন ‘মামা’ বলে।


রাজশাহীর মানুষ দেখেছে বাংলা ভাইয়ের অস্ত্রের মহড়া। পুলিশ পাহাড়ায় যার নেতৃত্ব দিয়েছিল বিএনপি নেতা নাদিম মোস্তাফা, মিজানুর রহমান মিনু, ব্যারিষ্টার আমিনুল হক, আলমগীর কবির। রাজশাহীর শান্তিপ্রিয় পরিবেশ সেদিন ঘোলাটে হয়েছিল। আজও তারা সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়ানোর মত সহিংসতা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে মেতে আছে।


নেতৃবৃন্দ বলেন, উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, জনগণের উন্নয়ন করাই আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য। অথচ, বিএনপি কী করেছে। বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা নেই তারা অত্যাচার নির্যাতন করেনি। একইসঙ্গে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। বিএনপির অত্যাচার-সন্ত্রাসের কারণে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারেনি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে অত্যাচার করেছে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে একইভাবে দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করল। আমাদের নেতাকর্মী, মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রীদের হত্যা করল। এমন জঘন্য কাজ বিএনপি-জামায়াত করতে পারে, যা কল্পনাও করা যায় না।


একদিন খালেদা জিয়া জনগণের ভোট চুরি করেছিল। কিন্তু জনগণ সেটা মেনে নেয়নি। আমাদের নারীদের ওপর অজস্র অত্যাচার তারা করেছিল। কই আমরা তো তাদের মেয়েদের কোনো অত্যাচার-নির্যাতন করছি না। তারা রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, মাঠে নামছে। আমরা তাদের কোনো বাধা দিচ্ছি না। কিন্তু জীবন্ত মানুষকে তারা পুড়িয়ে মেরেছে। এটা কি মানুষের কাজ?


নেতৃবৃন্দ বলেন সমাবেশের নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও সহিংসতা ছড়ালে ছেড়ে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ বন্দুকের নলে ভর করে আসেনি। জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হয়। তাই ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন না, আমরা ভেসে আসিনি’। আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে তারা ইতিমধ্যেই সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।


আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, যখনই বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসে ঠিক তখনই বিএনপি নামক সংগঠনটি সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। নির্বাচনে বিএনপি না আসলে নির্বাচন কারো জন্য থেমে থাকবে না।


পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার। পবা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এমদাদুল হকের পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা। বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন।


অতিথি ছিলেন রাজশাহী আওয়ামী লীগ সহসভাপতি এ্যাড. জাকিরুল ইসলাম সান্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান, পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম হীরা বাচ্চু, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাবলু, বাঘা পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও নওহাটা পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান হাফিজ, জিলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মর্জিনা পারভীন, কাটাখালী পৌর ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনোয়ার সাদাত নান্নু।


মিছিলে নেতৃত্ব দেন পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহরাব আলী, সাধারণ সম্পাদক নবীবুর রহমান, হরিয়ান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন, হড়গ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বাবর আলী, দামকুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, দর্শনপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শান্ত, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, নওহাটা পৌর যুবলীগ আহবায়ক শেখ ফরিদ, কাটাখালী পৌর যুবলীগ আহবায়ক জনি ইসলাম, হরিয়ান ইউপি’র চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু, দর্শনপাড়া ইউপি’র চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন সাব্বির।


উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আযম সেন্টু, পবা উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা মাজদার রহমান সরকার, মোতাহার হোসেন, ফারুক হোসেন, দুলাল হোসেন, পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মাননান, পবা উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফরিদুল ইসলাম রাজু, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল কারিম প্রমুখ।

শেয়ার করুন