রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে এই আসনের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী-৩ আসনের নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্য কেন্দ্রগুলোতেও বিপুল ভোটার উপস্থিতি এবারের নির্বাচনকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সর্বত্রই ছিল উৎসবের আমেজ।
এদিন নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারের দীর্ঘ লাইন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ মহরম আলী জানান, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ৩০ ভাগ ভোটার ভোট প্রদান করেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় ছিল ৪২ শতাংশ। এই কেন্দ্রে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার আশা করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ভোট শুরুর আগেই খুব ভোর থেকে নারীরা দলে দলে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। দুপুরের পর ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কমেছে বটে তবে ভোট দিচ্ছে সকলেই। নওহাটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের মোট ভোটার ৩ হাজার ৮০৬ জন।
এদিকে দুপুরের দিকে এই কেন্দ্রে গিয়ে নারী ভোটারদের লাইনে পাওয়া যায় নওহাটা পৌরসভার হালদার পাড়ার ৭৮ বছর বয়সি
শ্রীমতি রেনুবালা হালদারকে। সঙ্গে ছিলেন তার ছেলের বউ সোনালি হালদার ও প্রতিবেশী জল রানী হালদার।
ভোট দেওয়া শেষে বৃদ্ধা রেনুবালা হালদার বলেন, ‘কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজে নিজে ভোট দিলাম। বয়স হয়েছে। হাঁটতে একটু কষ্ট হয়। তারপরও ভাবলাম ভোটটা দিয়ে আসি। ভোটের একটা মূল্য আছে। আমরা এই দেশের মানুষ। ভোট দিলে যদি কোনো উপকার হয়।’
অন্যদিকে নওহাটা পৌরসভার আলুহাটা এলাকার শ্রীমতি রুপালি রানী দাসী ভোট দিতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘আগেও ভোট দিয়েছি একবার। এবারও দিলাম। কোনো ঝামেলা নাই। যেখানে দেওয়া দরকার সেখানেই দিয়েছি।
কারো চাপে পড়ে ভোট কেন্দ্রে এসেছেন কিনা-জানতে চাইলে রুপালি রানী বলেন, ‘কেউ চাপ দেয়নি। আবার আমরা ভোট না দিলে পরে কথাও হতে পারে। কোনো ঝামেলার মধ্যে পড়তে চাই না। আর নিজের ভোট দিলাম। এটা তো একটা আনন্দের বিষয়।’
জানা গেছে, রাজশাহী-৩ আসনে সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় ২২ শতাংশ। আরও কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সংখ্যালঘু নারী-পুরুষরা ভোট দিচ্ছেন লাইন ধরে।

