বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) উপলক্ষে রাজশাহীতে গত কয়েকদিন ধরে ছিল ক্রিকেট প্রেমীদের উম্মাদনা। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিসিএলের তিনটি ম্যাচেই ব্যাপক দর্শক সমাগম হয়েছে। শুধু ম্যাচ নয়, ক্রিকেটারদের অনুশীলন দেখতেও মাঠে ছিলেন দর্শকরা।
স্টেডিয়ামে আসা অনেকে দর্শকদের দাবি, রাজশাহীতে আর্ন্তজাতিক সিরিজ আয়েজনের ব্যবস্থা করা হোক। এছাড়া আগামী আসর থেকেই যেন রাজশাহীতে বসুক বিপিএল আসর।
গ্যালারিতে বসে ক্রিকেট ম্যাচ দেখার অনুভূতি প্রকাশ অনেকেই জানান, এতদিন বাংলাদেশের এই তারকা খেলোয়াড়দের শুধু টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি। বিসিএল উপলক্ষে এসব তারকা খেলোয়াড়রা রাজশাহীতে এসেছেন। তাদেরকে সরাসরি দেখা, সেলফি তোলা, অটোগ্রাফ নেওয়ার -এমন সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত।
রাজশাহীর ক্রিকেট প্রেমিরা বলেন, রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম অনেক সুন্দর। মাঠ সুন্দর, পিচ ভালো, গ্যালারিও ভালো। তবুও কেন বিপিএল হয় না বুঝি না। গত বছর যেভাবে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করা হলো, আমরা ধরেই নিয়েছিলাম বিপিএল হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না।রাজশাহীতে বিপিএল হোক -এটা আমাদের প্রাণের দাবি।
ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ও জমজমাট ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট -এই তিন ভেন্যুতে বিপিএল আটকে আছে। গত আসর তো হয়েছে দুই ভেন্যুকে। তবে বিপিএলের ভেন্যু বাড়ানোর দাবি বহুদিনের।
নিয়মিত ম্যাচ আয়োজন করা রাজশাহীতে বিপিএল আয়োজনে ভাবনা রয়েছে বিসিবি। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলটের মতে, রাজশাহীর অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করলে আসতে পারে সেই সুযোগ।
খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, “আমি নিজেই খুবই আনন্দিত। এ জন্য যে, রাজশাহীর মাঠটা এতো সুন্দর। আন্তর্জাতিক যদি চিন্তা করেন, আমাদেরকে ভৌগোলিকভাবে চিন্তা করতে হবে, ক্রিকেটকে ডেভেলপ করার জন্য। পরিচালক বা সাবেক অধিনায়ক হিসেবে আমি বলব যে, বাংলাদেশে তিনটা ভেন্যু আছে আন্তর্জাতিক। হাই কোয়ালিটি যেটা সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ঢাকা যেখানে সব সুযোগ-সুবিধা আছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ক্রিকেটকে যদি প্রমোট করতে হয়, উন্নত করতে হয়, তাহলে আমার মনে হয় যে, বিকল্প নেই হোম এন্ড অ্যাওয়ের চিন্তা ছাড়া। এতো সুন্দর সুন্দর স্ট্রাকচার আছে বাংলাদেশে যেমন- রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা, বরিশালে। এই স্ট্রাকচারগুলোকে কত তাড়াতাড়ি আপনার ডেভেলপ করা যায় এবং খেলার মাঠে যেন নিয়ে আসা যায়।”
রাজশাহীতে পর্যাপ্ত মাঠ থাকায় পাইলট মনে করেন, সুন্দর অবকাঠামো এবং বেশি বেশি খেলা আয়োজন করলে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার সুফল বয়ে আনবে।
বিসিবি এই পরিচালক বলেন, “রাজশাহী শহরে প্রচুর মাঠ আছে। আপনি যদি দেখেন রাজশাহীর এই স্টেডিয়ামের বাইরেও বেশ কিছু মাঠ আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যালারিসহ বিশাল একটা মাঠ আছে, মেডিকেল ক্যাম্পাস মাঠ আছে, মহিলা কমপ্লেক্স মাঠ আছে -এ রকম অনেক অনেক মাঠ আছে আমাদের।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি যে, এখানে যদি আরও সুন্দর ফ্যাসিলিটি ডেভেলপ করা যায়, বেশি বেশি টুর্নামেন্ট করা যায়, লিগগুলো যদি করা যায়; এমনকি দেখবেন যে, রাজশাহীতে অনেক একাডেমি আছে। প্রায় ৮-১০টা ক্রিকেট একাডেমি আছে।”
রাজশাহীতে বিপিএল আয়োজনের সম্ভাবনা ও অবকাঠামোগত উন্নতির উপর জোর দেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট।

