মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিহত ছয় মার্কিন সেনার মরদেহ দেশে ফেরানো উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘ডিগনিফায়েড ট্রান্সফার’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (৬ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইওয়া অঙ্গরাজ্যের এক কংগ্রেসম্যান।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেনারা বিদেশে দায়িত্ব পালনকালে নিহত হলে তাদের মরদেহ দেশে আনার সময় যে সম্মানজনক সামরিক আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়, সেটিকেই ‘ডিগনিফায়েড ট্রান্সফার’ বলা হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও আবেগঘন সামরিক রীতি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নূন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘শনিবার আমি ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে অনুষ্ঠিত মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেব। যুদ্ধে নিহত সাহসী মার্কিনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সেখানে উপস্থিত থাকব।’
একই বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে নিয়ে একটি আলাদা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন আইওয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা।
নিহত ছয় সেনা সদস্য হলেন— চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট মারজান (৫৪), মেজর জেফরি ও’ব্রায়েন (৪৫), সার্জেন্ট ডেকলান কোডি (২০), সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নিকোল আমোর (৩৯), ক্যাপ্টেন কোডি খর্ক (৩৫) এবং সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নোহ টিটজেন্স (৪২)।
এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা সবাই আর্মি রিজার্ভের সদস্য ছিলেন এবং মূলত লজিস্টিকস ইউনিটে দায়িত্ব পালন করতেন। গত রোববার কুয়েতের পোর্ট সোয়াইবা এলাকায় একটি কমান্ড সেন্টারে ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। ওই হামলায় আরও অন্তত ১৮ সেনা আহত হন।
এদিকে নিহতদের প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। তার ভাষায়, দুঃখজনকভাবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে।

