০৩ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, ০১:২৪:০৯ অপরাহ্ন
‘ইরানে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা’
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৩-২০২৬
‘ইরানে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা’

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে টুকরো টুকরো করা। কিন্তু ইরানি জনগণের সংহতি এবং যুদ্ধকালীন সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে গেছে।



স্থানীয় সময় শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।


লারিজানি বলেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের পাশাপাশি জায়নবাদী (ইসরায়েল) এবং কিছু আঞ্চলিক কুশীলবদের বক্তব্যে তাদের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাদের লক্ষ্য আসলে ইরানে সামান্য কোনো পরিবর্তন আনা নয়, বরং দেশটিকে খণ্ডিত করা।’


তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইসরায়েলের দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের মতো একটি বড় দেশে সামান্য পরিবর্তন আনার কোনো অর্থ নেই। তাদের মূল মাথাব্যথা খোদ ইরানকে নিয়ে, তাই তারা দেশটিকে ভেঙে ফেলতে চেয়েছিল।’


মার্কিন প্রেসিডেন্টের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের (যেখানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন ইরান ভেঙে পড়ছে) সূত্র ধরে লারিজানি বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে যে যুদ্ধের শুরু থেকেই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে ইরান খণ্ডিত হয়ে যায়।’


আমেরিকানদের ভুল হিসাবের সমালোচনা করে লারিজানি বলেন, ‘আমার মতে, আমেরিকানদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তারা বর্তমান পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল এবং বিশেষ করে ইরানকে বুঝতে পারছে না। তারা মনে করছে ভেনিজুয়েলার মতো দেশগুলোতে তারা যে ছক ব্যবহার করেছে, ইরানেও তার পুনরাবৃত্তি সম্ভব। কিন্তু এখানকার বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।’


তিনি বলেন, তারা একটি ‘হেভি শক’ বা বড় ধাক্কা দিয়ে ইরানি জাতির মনোবল ভেঙে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু ইরানিদের গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।


লারিজানি স্বীকার করেন দেশের ভেতরে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দিনশেষে ইরানিরা ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘ইরানিরা নিজেদের ভূখণ্ড আলাদা করার প্রশ্নে কোনো বিদেশি শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করবে না। ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন হস্তক্ষেপের করুণ অভিজ্ঞতা এই অঞ্চলের মানুষের চোখের সামনে রয়েছে। সবাই জানে এসব পদক্ষেপ জনহিতৈষী কোনো কারণে নয়, বরং তাদের নিজেদের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।’


আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বের ওপর জোর দিলেও লারিজানি একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি এই যুদ্ধে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেয় এবং সেই ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়, তবে ইরানের পাল্টা জবাব দেওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে এবং এটি নিয়ে কোনো আপস হবে না।’


তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বের দাবি করবে এবং আবার নিজেদের ভূমি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেবে—এমনটি হতে পারে না। যদি ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়, তবে প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে এবং এই নীতি অপরিবর্তিত থাকবে।’


শেয়ার করুন