কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ড রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ও গোয়েন্দাসহ পাঁচটি বাহিনী কাজ করছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, ডিবি, সিআইডি এবং পিবিআই যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার ছায়া তদন্ত চলছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন হত্যাকাণ্ডে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত বুলেট বৈরাগীর মা নীলিমা বৈরাগী।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে একটি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে কুমিল্লা নগরীতে প্রবেশের পর দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন বুলেট বৈরাগী। পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহ কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরপাড় এলাকার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের সামনে নেওয়া হলে স্বজনদের কান্নায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান সরদার বলেন, ঘটনা জানার পর থেকে আমরা পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাতদন্ত করছে।
তিনি বলেন, আমাদের সহকর্মীর এ অকাল মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। কাস্টমস বিভাগ সব সময় তার পরিবারের পাশে থাকবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুলেট বৈরাগীর বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। দেড় বছর আগে তার চাকরি হয়। গত ১১ এপ্রিল বিভাগীয় সরকারি প্রশিক্ষণের উদ্দেশে তিনি চট্টগ্রামে যান।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে ওঠেন। তার কুমিল্লায় বাসায় ফেরার কথা ছিল। যাত্রাপথে স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে তিনি মোবাইল ফোনে বেশ কয়েক বার কথা বলেন। তার এক বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী জানান, বুলেট বৈরাগী তার একমাত্র ছেলে। ওই রাতে সর্বশেষ ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ছেলে ফোন করে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। পরে রাত আড়াইটার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা কয়েকবার কথা বলেন। এরপর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো খোঁজ না পেয়ে শনিবার সকালে তার বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরই তার লাশ পাওয়ার খবর আসে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মো. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ অন্যান্য সংস্থা সম্মিলিতভাবে ঘটনাটির তদন্তকরছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

