২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ০৮:০৩:১৯ অপরাহ্ন
২ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নাকাল চট্টগ্রামবাসী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৭-০৪-২০২৬
২ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নাকাল চট্টগ্রামবাসী

আকাশে ঘন কালো মেঘ জমলে চট্টগ্রামের মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পরিণত হচ্ছে ছোটখাট খালে।


সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এই সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির ওপর দিয়ে পথ চলতে গিয়ে পথচারীদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে।


দুপুর ১২টায় প্রবর্তক মোড় ও ও আর নিজাম রোড এলাকায় দেখা যায় এক বিভীষিকাময় দৃশ্য। সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ছিল ঘন কালো পানির নিচে। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি মূল সড়ক নাকি কোনো নালা। ছোট ছোট প্রাইভেট কার ও অটোরিকশাগুলো যখন এই পানি ভেঙে এগোচ্ছে, তখন চাকার ধাক্কায় সৃষ্টি হওয়া স্রোত আছড়ে পড়ছে পাশের দোকানপাটে। ফুটপাত তলিয়ে যাওয়ায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়ক বিভাজকের (আইল্যান্ড) ওপর দিয়ে সার্কাসের মতো কসরত করে পার হচ্ছেন।



আমবাগান আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২ মিলিমিটার। এই সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুসমান পানি জমার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হিজড়া খালের উন্নয়নকাজ। খালের মুখ অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে রাখায় পানি নামতে পারছে না। ফলে খালের পানি উপচে সরাসরি সড়কে চলে আসছে।


সেখানে প্যান্ট গুটিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী আশরাফুল ইসলাম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সবে তো বৃষ্টি শুরু হলো। এখনই যদি এই অবস্থা হয়, তবে পুরো বর্ষাকালে কী হবে? তখন তো বাসা থেকেই বের হওয়া যাবে না।


এদিকে জলাবদ্ধতার প্রভাবে প্রবর্তক মোড় ছাড়িয়ে জিইসি ও গোলপাহাড় মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আধা কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের সময় লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি।


দেড় দশক ধরে অটোরিকশা চালানো ওয়াজিউল্লাহ জানান, আগে বর্ষায় পানি হতো, কিন্তু এখন গত এক মাস ধরে বৃষ্টি ছাড়াই প্রতিদিন এখানে পানি উঠছে।


সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, হিজড়া খালটি অবৈধভাবে দখলের কারণে ৩০ ফুট থেকে সংকুচিত হয়ে কোথাও ১২-১৫ ফুটে নেমে এসেছে। বর্তমানে খালটি উদ্ধার ও সম্প্রসারণের কাজ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, পরিস্থিতি পরিদর্শন করে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


শেয়ার করুন