মুরাদনগর উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি। ঈদুল আজহা সামনে রেখে খামারে লালন-পালন করা হয়েছে ২১ হাজার ৬৭৬টি পশু। চাহিদা ১৮ হাজার। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার বেশি। খামারিরা ২১ হাজার ৬৭৬টি পশু বেশি পালন করেছেন। ছোট-বড়-মাঝারি মিলিয়ে প্রায় ১১শ গো-খামার রয়েছে। এছাড়া বাড়ি বাড়িতে কোরবানি গরু লালন পালন করছে গৃহস্থরা।
খামারিরা বলেন, আগে ছোট বাছুরে হতো। এখন বড় প্রায় গরু লাম্পি চর্মরোগ ও ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়েছিল। চিকিৎসা করে ওইসব গরুগুলো সুস্থতা নিশ্চিত করেছেন। রোগাক্রান্ত হয়ে অনেক গরু মারা গেছে। এতে দিশাহারা খামারি ও গৃহস্থরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাংসের দাম, চাহিদা ও লাভ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশু পালনে আগ্রহ বাড়ছে খামারিদের। সংসারে বাড়তি আয়ের জন্য খামারি ছাড়াও কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবীসহ নানান পেশার মানুষ করছেন পশু পালন।
প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মুরাদনগর উপজেলা ২২টি ইউনিয়নের খামারে ২১ হাজার ৬৭৬টি পশু। গরু ১৫ হাজার ৬৭১টি,মহিষ ১৫৪টি, ছাগল ৫ হাজার ১৫৮টি, ভেড়া ৬৭৩টি অন্যান্য ২৯টি পালন হয়েছে। এবার পশুর চাহিদা ১৮ হাজার ৫১৮টি হলেও গত বছর উৎপাদন ১৯ হাজার ৪৯টি, চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ১৫৫টি। প্রতি মুহুর্তে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে খামারিদের।
উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের গ্রামে ঘুরে জানা গেছে, অনেক খামারি ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশু লালন পালনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ঈদে এসব বিক্রি করে লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা। এছাড়া স্থানীয় বেপারিরা এলাকায় কৃষকদের বাড়ি বাড়িতে গিয়ে গরু ক্রয় করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করছে। এসব পশুর স্থানীয় হাট ছাড়াও বিক্রির জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে চলে যায়। তবে গো-খামারি ও কৃষকদের এই প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত থাকবে কিনা এ নিয়ে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে।
পাহাড়পুর ইউনিয়নের শর্মাকান্দা গ্রামের মো. আলীর ৭টি ষাঁড় ও ৪৯টি গরু রয়েছে। যাত্রাপুর গ্রামের একটি দাখিল মাদরাসা শিক্ষক মো. গাফফার আহমেদ ভূঁইয়া খামারে ৪টি ষাঁড়। খামারি দুলাল মিয়ার ৪টি ষাঁড়। যাত্রাপুর গ্রামের ইউপির সদস্য বাবুল মুন্সী খামারে ৬টি ষাঁড়। রাজাচাপিতলা গ্রামের আ. মাঈন ও হাজী আবুল হাসেম খামারে ৪০টি গরু, পিপিড়িয়া কান্দা গ্রামের শাহিন ও হেলাল খামারে ৩০টি ষাঁড়।

